আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের হয়ে লড়বেন সু চি

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় দেশের পক্ষে লড়বেন অং সান সু চি।

রাখাইনে সংঘটিত রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সু চির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে গাম্বিয়ার করা মামলায় দেশটির পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য একটি টিম গঠিত হয়েছে। সেই টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি। জাতিসংঘ আদালতের মুখোমুখি হতে সু চি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে যাচ্ছেন বলে গতকাল বুধবার নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার সরকার। মিনারমার স্টেট কাউন্সিলর অফিসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল  বুধবার পোস্ট দেওয়া একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘে রেজল্যুশন গৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশগুলোর উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে আবারও রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে বিপুল ভোটে একটি রেজল্যুশন গৃহীত হয়েছে। রেজল্যুশনটির পক্ষে ১৪০টি দেশ ও বিপক্ষে ৯টি দেশ ভোট দেয়। এ ছাড়া কোনো পক্ষেই ভোট দেয়নি ৩২টি দেশ। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

রেজল্যুশনটি গৃহীত হওয়ার পর এ বিষয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিল গাম্বিয়া

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে সোমবার মিয়ানমারের নামে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছে গাম্বিয়া। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া এ মামলা করেছে।

গাম্বিয়ার আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ মামলায় মিয়ানমারের গণহত্যার আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার ব্যবস্থা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জরুরিভাবে আদেশ দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া এ মামলা করেছে।

মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান ইপির

মিয়ানমারের ওপর ‘বিশ্বব্যাপী ব্যাপক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় সংসদ (ইপি)।

মিয়ানমারের সব অস্ত্র, যুদ্ধোপকরণ এবং অন্যান্য সামরিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সরবরাহ, বিক্রয় বা স্থানান্তরে স্থগিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য সামরিক সহায়তার না করার বিষয়েও আহ্বান জানায় ইপি। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গারা গণহত্যার ‘ভয়াবহ ঝুঁকিতে’, বিচারের ‘মুখে’ সু চি

রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সামরিক হামলার কারণে বিচারের আওতায় আনার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন মিয়ানমারের নোবেলজয়ী বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি। জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দলের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ বা তথ্যানুসন্ধান দল গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় মিয়ানমারবিষয়ক একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে। 

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নির্মিত হচ্ছে সরকারি স্থাপনা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেলে আসা গ্রামগুলোর সব ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে, সেখানে পুলিশ ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন ও শরণার্থী পুনর্বাসনের মতো সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশটির সরকারের তত্ত্বাবধানে বিবিসির সাংবাদিকদের চারটি শরণার্থী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে একসময় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়ি ছিল। এখন সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন ক্যাম্প এবং পুলিশ ব্যারাকসহ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মিয়ানমারের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ভাঙার বিষয়টি অস্বীকার করছেন। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার নিয়ে সন্দিহান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

মিয়ানমারের একটি গ্রামে সেনাদের কার্মকাণ্ডের বিচার করার যে পরিকল্পনা দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, তা নিয়ে সোমবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ওই গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রায় চারশ সদস্য নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িত সেনাসদস্যদের শাস্তি হবে : মিয়ানমার সেনাপ্রধান

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানের সময়কার নির্যাতনে জড়িত সেনাদের সামরিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান।

শনিবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লাংয়ের ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়। ‘কতিপয় সেনাসদস্য কিছু কিছু ঘটনায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশ পালনে দুর্বলতা দেখিয়েছেন’—সম্প্রতি সামরিক আদালতের তদন্ত দল রাখাইনের একটি গ্রামে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এমনটি দেখতে পেয়েছে বলে ওই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে আছে চীন

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ বা সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ কথা জানান সফররত চীনা দূত চেন হাই।

চীনা দূত ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠকের পর এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের কার্যালয়। গণমাধ্যম ইরাওয়াদির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৩০ সেনা সদস্য নিহত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার চীন সীমান্তের কাছের এই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সংঘর্ষে সেনাসদস্যদের প্রাণহানি ঘটে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি।

বুধবার থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রাণহানির এই খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের এই দাবি অসম্ভব।

Pages