Beta

‘আত্মহত্যা নিয়ে এলাকাভিত্তিক গবেষণা দরকার’

১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৪৯ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:০৫

ফিচার ডেস্ক
ছবি : মোহাম্মদ ইব্রাহিম

আজ ১০ অক্টোবর, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারেও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারটির আলোচ্য বিষয় ছিল ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ’।

সেমিনারের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন,  ‘মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। আসলে একজন মানুষ যখন আত্মহত্যা করে, তখন নিজেকে খুব নিরুপায় মনে করে। তাই হয়তো সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে মানুষকে আত্মহত্যার নেতিবাচক দিকগুলো বোঝাতে হবে। তাহলে হয়তো বিষয়টি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আত্মহত্যা নিয়ে এলাকাভিত্তিক গবেষণা করা দরকার।’

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে সংস্কৃতি এবং আমাদের জীবনধারা আর সেইসঙ্গে বাড়ছে মানসিক জটিলতা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধিতাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকার ও সুযোগের সমতা বিধানে বদ্ধপরিকর।’

যেকোনো সমস্যা দূর করার জন্য আগে থেকেই প্রতিষেধক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য শুধু মানসিক পেশাজীবীই নয়, বরং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশসিত প্রতিষ্ঠান, ইলেকট্রনিক ও  প্রিন্টিং মিডিয়াকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি। 

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, ‘শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, বিশেষ করে নারী ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয়, বিভাগীয় এবং এমনকি জেলা পর্যায়ে ন্যাশনাল ও রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন করেছে।’

এরপর সেমিনারের প্রতিপাদ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন মোছাম্মৎ নাজমা খাতুন। তিনি তাঁর আলোচনায় প্রথমে মানসিক স্বাস্থ্যে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান ব্যবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় আট লাখ নারী ও পুরুষ আত্মহত্যা করছে। বিশ্বজুড়ে এই হার বেড়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছে। তিনি এরপর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আত্মহত্যার সঙ্গে মানসিক রোগের সম্পর্ক রয়েছে। আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ৭০ ভাগ মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ। এদের মধ্যে কিছু আবার বিষণ্ণতা, সিজোফ্রেনিয়া ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে আত্মহত্যার ঝুঁকি প্রচণ্ড। তাই মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা জরুরি। আশার বিষয় হলো, আমাদের দেশ মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে।’

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মো. জহির উদ্দিন আরো বলেন, ‘মানসিক চাপ, প্রতিযোগিতামূলক আচরণ, যথাযথ বিনোদনের অভাব, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে যেমন বাধা হিসেবে কাজ করছে, ঠিক তেমনি বিভিন্ন মানসিক সমস্যা সৃষ্টিতে এবং আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব রাখছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন পিএইচডি। বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা যায়, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার হতাশা ও অস্থিরতা দূর করে তাদের মেধা ও মননকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।’

সেমিনারে সভাপতি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার বলেন, ‘কোন দেশের জনগোষ্ঠী কতটা সক্রিয় ও উৎপাদনশীল হবে, তা নির্ভর করে তাদের শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক সামাজিক অবস্থার সুষ্ঠু সমন্বয়ের ওপর। বর্তমান সরকার আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও  মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আসছে।’

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা পরিবর্তন করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

Advertisement