Beta

কৈশোরে গর্ভধারণ ও মাতৃমৃত্যু রোধে সমন্বয় জরুরি

১৯ মে ২০১৯, ২১:৫৯ | আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, ২২:০৬

ফিচার ডেস্ক

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। ১০০ কিশোরীর মধ্যে ৬০ জনের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অল্প বয়সে। আর এ কারণে ঘটছে কৈশোরে গর্ভধারণ ও মাতৃমৃত্যুর মতো ঘটনা।

 বাল্যবিবাহ, কৈশোরে গর্ভধারণ ও মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে সারকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগগুলো কী এবং এসব বিষয়ে আমাদের ভাবনা কী, এ নিয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪৪২তম পর্বে আলোচনা করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ( তিনি অনুষ্ঠানকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন),  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইউনিটের প্রধান পরিচালক জনাব ডা. মো. শরীফ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির চিফ অব প্রোগরাম অপারেশন জনাব তসলিমুদ্দিন খান, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ফারজানা ব্রাউনিয়া।

এনটিভি : বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ কিশোর –কিশোরী। দেখা যায়, এদের একটি বড় অংশ প্রজনন বয়সে প্রবেশ করেছে। এই জনগোষ্ঠীর প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়নের বিষয় নিয়ে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনার বিষয়টি একটু জানতে চাইব.....

প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান : বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। যারা প্রজনন বয়সে প্রবেশ করেছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য বর্তমান সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল স্ট্রেটিজি ফর অ্যাডোলোসেন্স হেলথ ২০১৭ থেকে ২০৩০। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৭ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত চলবে। নীতি প্রণয়ন এরই মধ্যে করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা এই ২২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী, যারা প্রজনন বয়সে প্রবেশ করছে, তাদের বিষয়ে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করব। এর মধ্যে আমি উল্লেখ করতে চাই, আমাদের অ্যাডোলোসেন্স রিপ্রোডাকটিভ ও সেক্সুয়াল হেলথ যেটি, এটি হলো, কিশোর ও কিশোরীদের যৌন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিতে সচেতনতা তৈরি করা। তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা। আমাদের কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে ভায়োলেন্স অ্যাগেইন্টস ওইমেন, নারীর বিরুদ্ধে যে সহিংসতা, সেটি বন্ধ করার জন্য সরকারের নানামুখী কর্ম পরিকল্পনা ২০১৭ থেকে ২০৩০ এর মধ্যে রয়েছে। এই সঙ্গে আমাদের কিশোর- কিশোরীদের যে মানসিক স্বাস্থ্য সে বিষয়ে বিশেষ পরিচর্যা এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রজনন বা যৌন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মিন্সট্রুয়াল হাইজিন (ঋতুস্রাবের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা) ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্কুলে যায় ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের মেয়েরা, এই কিশোরীদের ক্ষেত্রে আমরা সেনিটারি প্যাড বা ন্যাপকিন সরবরাহের উদ্যোগ সরকারিভাবে নিচ্ছি। আমাদের সেই প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা তাদের পাঠদানের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই শিক্ষা কার্যক্রমটাও পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি যাতে তারা পায়, সেই জন্য আয়রন, ফলিক এসিড সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে, মেয়েদের যেন আয়রনের ঘাটতি না হয়।

আর নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, কোনো রকম বেআইনি কিংবা আচরণগত সমস্যা যেন না হয়, সেজন্য সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম আমরা চালু করেছি।  আর বাল্যবিবাহ বন্ধের ক্ষেত্রে আমরা সর্বপোরি জনসচেতনতামূলক অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে স্কুলে, মাদ্রাসায়, গার্মেন্সে। ধর্মীয়ভাবে আমাদের যে ইমাম সাহেবরা রয়েছেন, যারা আলেম-ওলামা রয়েছেন তাদের মধ্য দিয়েও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি যেন ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে না হয়।

এনটিভি  :  কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে প্রায় ৬০ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য। এই বিবাহিত কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ডা. মো. শরীফ :  এক সময় মনে করা হতো, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ কেবল পিল ও কনডম নিয়ে কাজ করে। সেই  ধারণা কিন্তু এখন আর নেই। বাংলাদেশে সব দিক থেকে এগিয়ে রয়েছি আমরা। কিন্তু একটি দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবটা খুব কম। এখনো আমরা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারিনি। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবটা যেন হয়, এর জন্য আমরা প্রচারণা অভিযান করছি। গত দেড় বছরে ১৭০টা উপজেলাতে আমরা শেষ করেছি। সেখানে মাননীয় এমপি মহোদয়েরা উপস্থিত থাকেন। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা হেলথের সব স্টাফ, বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে আমরা এই অনুষ্ঠান করি। আমরা চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগ শেষ করেছি, দুটোতে যেহেতু বাল্যবিবাহ বেশি হয়, মাতৃমৃত্যুও বেশি হয়। বাল্যবিবাহ ও মাতৃমৃত্যু একসঙ্গে জড়িত। কারণ, অল্প বয়সে গর্ভবতী হলেই মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিনেটাল কেয়ার চেকআপটা যদি বেশি হয় তাহলে ভালো।

জেনে খুশি হবেন আগে সার্জিক্যাল এমআর হতো। এখন মেডিকেল এমআর হচ্ছে। প্রায় ৯৮ দশমিক পাঁচ ভাগ সফল। এই জিনিসটি আমরা করছি। আরেকটি জিনিস জেনে খুশি হবেন,  আমি সুইডেন গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম আমাদের চেয়ে যে তারা খুব বেশি ভালো, তা নয়। আমাদের এই অবস্থার মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, মন্ত্রী মহোদয়, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে এগিয়েছে অনেক। গত তিন বছরে আমরা ৬০৩টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে অ্যাডোলোসেন্স ফ্রেন্ডলি কর্নার চালু করেছি। এটি একটি ছোট রুম। এখানে আমরা সোফা দিয়েছি। এখানে যে শুধু কিশোরীরা আসে তা নয়, কিশোররাও আসবে। এখানে আমরা কাউন্সেলিং করছি।  বাল্যবিবাহ যাতে না হয়, এই জন্য আমরা কাউন্সেলিং করছি। কিশোরদেরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। মানুষের মনে একটি ভুল ধারণা রয়েছে, স্বপ্নদোষ হলে মনে করে কী একটি রোগ হয়ে গেছে। স্বপ্নদোষ যে আসলে কোনো রোগ নয়, স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় বিষয়, এ বিষয়ে আমরা কাউন্সেলিং করছি।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে জঙ্গি দমন হয়েছে। বিভিন্ন মোটিভেশন বা প্রেরণা মূলক কাজ আমরা করছি। সেগুলো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মিলে জিও, এনজিও মিলে কাজ করছি। সেখানে ফারজানা ব্রাউনিয়া আপার একটি অবদান রয়েছে। উনি স্বর্ণ কিশোরী দিয়ে অনেক মোটিভেশন করেছেন। আমরা আপাতত এগুলোই করছি। পরে আশা করছি আরো করব।

এনটিভি : আমরা দেখি যে সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি উদ্যোগ রয়েছে। তসলিমুদ্দিন খান আপনার কাছে একটু জানতে চাইব, এই বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা বা কর্মসূচি রয়েছে কি না?

তসলিমুদ্দিন খান : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি প্রথমে একটু পেছনের কথা বলি। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কিন্তু অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্য অন্যদের কাছে ঈর্ষণীয়। অন্যদের কাছে অনেক শিক্ষণীয়। আপনি যদি শিশু মৃত্যুর কথা ধরেন, মাত্র আড়াই দশকের মধ্যে বাংলাদেশে কিন্তু মৃত্যুর হার কমে গেছে। এটি প্রায় দুই তৃতীয়াংশ।

এক হাজার শিশুর মধ্যে ৪৫ জন শিশু মারা যাচ্ছে। তবে এইটার হার অনেক অনেক বেশি ছিল কিছুদিন  আগেও। মাতৃমৃত্যুর হারও অনেক কমে গেছে। পরিবার পরিকল্পনার মধ্যে একটি অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ১০০ জন দম্পতির মধ্যে ৬২ জন দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ৬২ জন ব্যবহার করে, এর পরিপ্রেক্ষিতে যেটি আমরা টিএফআর বলি, একজন নারীর প্রজনন ক্ষমতা দুই দশমিক তিন- এ দাঁড়িয়েছে। এটি ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে ছয়-এ ছিল।

এই যে একটি বিরাট পরিবর্তন, প্রশ্ন হলো এই পরিবর্তনটা কেন হয়েছে? এই পরিবর্তনটা হয়েছে সরকারের যে নীতি, যাকে বলে সহায়ক নীতি এর কারণে। সরকার বলেছে যে শুধু সরকারি পর্যায়ে একা নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রাইভেট সেক্টর সেখানে থাকবে, এনজিও সেক্টর সেখানে থাকবে, সরকারি সেক্টর সেখানে থাকবে। আমি আমার প্রতিষ্ঠান থেকে বলতে পারি, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি সবসময় সহযোগিতা পাচ্ছে। তাই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি অর্থাৎ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাংলাদেশে সোশ্যাল মার্কেটিংয়ের কাছে এসেছে।

কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় আরেকটি কথা বললেন । সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমাদের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো বাংলাদেশে আমাদের আইন রয়েছে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে না দেওয়া। এটি আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু সত্য কথা হলো এখনও ১০০ জনের মধ্যে ৬০ জনের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তারা আবার গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও কিন্তু সহজলোভ্যতা অতটা তাদের কাছে থাকে না। তাদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ আবার যখন গর্ভবতী হয়, সেটা বাল্য অবস্থাতেই হয়। আমরা মনে করি ২০ বছরের নিচে গর্ভবতী হওয়া ঠিক নয়। তাদের অনেক জটিলতা হয়। তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। মাতৃমৃত্যু সেখানে বেশি থাকবে। সেখানে শিশু মৃত্যু বেশি থাকবে। কিন্তু এটি হয়ে যাচ্ছে। এই জিনিসগুলোকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে এবং সেখানে প্রচুর সুযোগ করে দিয়েছে সরকার প্রাইভেট সেক্টরের জন্য। এখানে প্রাইভেট সেক্টরগুলোও প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। স্বর্ণ কিশোরী সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যান্য এনজিও রয়েছে সরকারের সঙ্গে। সংবলিতভাবে সচেতনতা তৈরি  করতে হবে,  যেখানে  বাল্যবিবাহ থাকবে না। তরুণ দম্পতিরাও যেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আওতায় আসে, এটিও দেখতে হবে।

এনটিভি : ফারজানা ব্রাউনিয়ার কাছে একটু আসব। আমরা দেখেছি, দীর্ঘদিন ধরে আপনি কিশোরীদের নিয়ে কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন। অনেকদিন ধরেই আপনাকে এর মধ্যে আমরা পাচ্ছি। এত দিন ধরে কাজ করে আপনার কী মনে হয় যে কিশোরীরা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে?  বিবাহিত কিশোরীরা হুমকির মধ্যে পড়ে। কী কী স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে তারা পড়ে?

ফারজানা ব্রাউনিয়া :  এটি ২০১২ সালের কথা যেদিন থেকে আমরা স্বর্ণ কিশোরীর যাত্রা শুরু করি। সম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে আমাদের হাঁটার সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য হয়েছে। সৌভাগ্য এই অর্থে যে মানুষের পালসকে জানার একটি সৌভাগ্য হয়েছে। আর দুর্ভাগ্য এই কারণে যে মানুষ এখনো অনেক কষ্টে রয়েছে। আমরা সবাই এখনো অনেক কষ্টে। কেন কষ্টে? আমার ঘরের যে প্রদীপটি সেটি হচ্ছে আমার কিশোরী মেয়ে। প্রদীপের যদি আমরা আলোটা জ্বালিয়ে রাখতে না পারি, তাহলে সেই কিশোরী আলো দেবে না। আপনি নিজেই পরিসংখ্যানটি দিয়েছেন, দুই কোটি কিশোরী, দুই কোটি কিশোর, মোট চার কোটি। কিশোরদেরও কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে। তবে আজকে আলোচনার বিষয় সেটি নয়। তাহলে এক কোটি মেয়ে বিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে কিন্তু কোনো বাড়ি নাই। ১৮ বছর, ১৩ বছর কিছুই লেখা নেই। কেন ? কারণ, ৯৯৯ এ ফোন করলে তার স্বামী যদি তাকে মারে তার একটি জায়গা রয়েছে যাওয়ার। বাংলাদেশে কিন্তু ওই মেয়েটি সামাজিকভাবে অ্যালউড নয় যে সে কোথাও গিয়ে তার দুঃখের কথা বলবে। কারণ, দুঃখের কথা বললে, তার শ্বশুর –শাশুড়ি, স্বামীর নামে বদনাম করা হচ্ছে। এভাবে করে মেয়েটির যখন বাল্যবিবাহ হয়, তখন সে প্রদীপটি নিভে যায়। তার স্কুলে যাওয়া হয় না, তার পুষ্টির কথা কেউ খেয়াল রাখে না। সে এক গ্লাস দুধ পায় না। তার শরীরটা তখন বড় হচ্ছে। তার ভিটামিন ডি নাই। একটু আগেই বললেন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, তার শরীরে আয়রন নেই। তাহলে যখন আয়রন নেই, ভিটামিন ডি নেই, তাহলে সে কীভাবে বড় হবে? বড় হতে হতে সে ছোট খর্বাকৃতি হয়। শরীর খুব খারাপ থাকে। বাচ্চা নেবে কি, নেবে না সেই সীদ্ধান্তে তার কোনো ধরনের ভূমিকা নেই। সেই গর্ভাবস্থায় তাকে পানি টানতে হয়। অবশ্যই একটি অল্প বয়সী মেয়ে এই পারিবারিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে সক্ষম হবে না। একটি কিশোরীর মৃত্যু ঘটে  বাল্যবিবাহর কারণে। এ কারণে এই কিশোরীদের বিয়ে বন্ধ করতে হবে।

আর আপনি যেটি প্রশ্ন করেছেন স্বাস্থ্যের দিকে, মূল হলো পুষ্টি। শরীরে যদি পুষ্টি না থাকে, আমি হাঁটব কী করে? পানি আনব কী করে? বিছানয় পড়ে থাকব। বকা খেয়ে দাঁড়াব এমন হবে না? কিন্তু যেই বাচ্চাদের বাল্যবিবাহ হয়ে গেছে, তাদের নিয়ে আমি বলতে চাই, সরকার আসলে চার অক্ষরের শব্দ। তবে এরাই আসলে মূল সমস্যাটা তৈরি করে। আমরা যারা এ পাশে রয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে থাকি। আমাদের বড় বড় স্বপ্নগুলো সফল হয়, যখন সরকার নেই বাউন্ডারিতে আমাদের আশ্রয় দেয়। সর্বশেষে হচ্ছে সেই মেয়েটি যার  বাল্যবিবাহ হয়েছে। এই যে বিবাহিত মেয়ে শিশু, এদের নিয়ে বিশেষভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না আমার জানা মতে এবং সরকারেরও শুধু তাদের নিয়ে এমন কোনো প্রোজেক্ট নেই, যেটি হতে পারে।  তাহলে বোধ হয় একটু অন্ধকার থেকে আলোর মুখে আমরা আনতে পারতাম। আমি শুধু বলব, আমাদের সবাই মিলে আমাদের মেয়েটাকে বাঁচাই।

এনটিভি :  বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ হাতে হাত ধরে চলে। এ কারণে মাতৃমৃত্যুর হার কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে। যারা কিশোরী রয়েছে, মা হচ্ছে তাদেরও কিন্তু মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য কী কী পরিকল্পনা আপনারা বাস্তবায়ন করেছেন? আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান : গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কল্পে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে এ ধরনের কৈশোর বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আমাদের যেমন আইনি কর্মসূচি রয়েছে, পাশাপাশি সমাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার তো আসলে নীতিগত বিষয়গুলো, কর্মকৌশলগুলো  নির্ধারণ করে। কিন্তু কাজগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, এই কৈশোর কালীন  বিয়ে দেওয়ার প্রবণতার কী কারণ এটিও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। বিয়ে হয়ে গেলেও যেন কিশোরী বয়সে সে গর্ভধারণ না করে, এই বিষয়টির দিকেও আমাদের সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে, যেন ২০ বছরের আগে ওই মেয়েটি গর্ভধারণ না করে। এই ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অনেক কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে করা হচ্ছে। স্কুলের পাঠ্য পুস্তকেও নারী শিক্ষা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গর্ভধারণ প্রতিরোধে যা কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, সবকিছু পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়ে থাকে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনাটা আমরা নিয়েছি, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয় আমরা উল্লেখ করেছি। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টিসেবা, সহিংসতা যেন না হয়, অন্যান্য সব সহযোগিত আমরা যেন করতে পারি। এ বিষয় নিয়ে তার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যা করা দরকার সব বিষয়ে আমাদের সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

চতুর্থ এইচপি এনএসপি, যে সেক্টর প্রোগ্রাম রয়েছে আমাদের, সেটিতে ২০১৭ থেকে ২০২২-এর আওতায় এই কর্ম পরিকল্পনাগুলো। এমসিআরএএইচ কর্ম পরিকল্পনার মধ্যে আমরা এগুলো এনেছি। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমরা সরকারি, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে  কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সব সমস্যা সমাধানের জন্য দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাল্যবিবাহ, মাতৃমৃত্যু ও কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ এটি একটি অস্থিতিশীল অবস্থা। আমরা যেটি চেলেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি, সেটি মাতৃমৃত্যুর হার কমানো। এ কারণে আমাদের বড় যেই প্রচারণা আমরা যেখানে দৃষ্টি দিয়েছি, সেটি হলো প্রত্যেকটি মা যেন তার গর্ভাবস্থার সময় অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে পারে।

আমাদের যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবকল্পনা কেন্দ্র, এফডাব্লিউসি স্তরে স্তরে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সেখানে এসে অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে পারে। মেয়েটি যদি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে পারে, প্রত্যেকটি মা যদি হাসপাতালে এসে ডেলিভারিটা করে তাহলে আর এই সমস্যাগুলো হবে না, মাতৃমৃত্যুর হার কমে আসবে। পোস্ট নেটাল কেয়ার যেটি অর্থাৎ প্রসবের পর যে যত্ন সেটিও যেন হাসপাতালে এসে নেয়। আমরা হসপিটাল ভিত্তিক প্রসব করাতে চাই, যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে। মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য এ ব্যাপারেও সরকার আন্তরিক।

ফারজানা ব্রাউনিয়া :  আমি একটু যোগ করব, স্বর্ণ কিশোরীর কেবল একটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি এমইউ রয়েছে, তা নয় কিন্তু, আমাদের এমইউ রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। এমনকি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। এই সবাই মিলে ঘটনাটা ঘটাতে হবে। এসএমসি বাংলাদেশের একটি গর্ব। পরিসংখ্যান নিয়ে আপনি দেখবেন বাংলাদেশেও একটি প্রতিষ্ঠান এ রকম উজ্জ্বল হতে পারে। আমি আপনার সঙ্গে আসলেই একমত সেদিন বেশি দূরে নয়।

এনটিভি : কৈশোরে গর্ভধারণ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য রয়েছে কি না?

ডা. মো. শরীফ :  প্রথম বক্তব্য হলো, এটি আমাদের বন্ধ করতে হবে। একবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়, কমাতে হবে। সরকারের কিন্তু প্রচুর উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো আসলে না বললেই নয়। প্রধানমন্ত্রী যেসব কাজ করেছেন গত ১০ বছরে, এগুলো আসলে প্রচার যদি করা যেত, ইতিহাস শেষ করা যেত না।

আমাদের ইউনিউয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র যেগুলো রয়েছে,  সেগুলো আসলে ব্যবহৃত হতো না। ২০১৪ থেকে বিশেষ করে কাজ আরম্ভ হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা রয়েছে ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।  তারা নরমাল ডেলিভারি সার্ভিসটা দিচ্ছে। অ্যাডোলসেন্স কর্নার ধীরে ধীরে আমরা করব, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলাতে দুটো করে আমরা করব। একে যদি আমরা সফল করতে পারি বাল্যবিবাহ কমে যাবে। আরেকটি জিনিস হলো স্কুল হেলথ প্রোগরাম কিন্তু আমাদের হেলথ ও ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে রয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাড়ে চার হাজার অ্যাডোলোসেন্স ক্লাব রয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেই চেষ্টাও হচ্ছে আমাদের। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও কাজ হচ্ছে। এর সঙ্গেও আমাদের সমন্বয় হয়েছে। আমার মনে হয়, সমন্বয়টা যদি সঠিকভাবে হয় মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার অধিদপ্তর দুটোরই কিন্তু কল সেন্টার রয়েছে। কল সেন্টারে  প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ফোন আসে। ডক্টর রয়েছে, প্যারামেডিক্স রয়েছে, তারা জবাব দিচ্ছে।

এনটিভি : কৈশোরে গর্ভধারণ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ বিষয়ে আপনার কাছে কিছু জানতে চাইব…

তসলিমুদ্দিন খান : সরকারি প্রচেষ্টার সঙ্গে বেসরকারি  প্রচেষ্টা রয়েছে। এর একটি অন্যতম কর্মসূচি হলো, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি ইউএসআইডির সহায়তায় যে কার্যক্রমটি পরিচালনা করে, সেখানে প্রায় ৭২টি উপজেলায় বর্তমানে কার্যক্রম রয়েছে। সেটা হলো, কমিটি মোবিলাইজেশন কার্যক্রমের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এটি কেবল দম্পতিদের মধ্যে বাড়ানো তা নয়, বয়ঃসন্ধিদের মধ্যে বাড়ানো। আমাদের যেই কর্মসূচি একে ‘নতুন দিন’ কর্মসূচি বলি। এখানে আমরা বলি, ১৮, ২০, ৩৫, তিন আনবে সুখের নতুন দিন। কেন? ১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়, ২০ বছরের আগে সন্তান নয়, ওই সন্তানের মধ্যে ব্যবধান কমপক্ষে তিন বছর থাকতে হবে। ৩৫ বছরের পরেও কিন্তু সন্তান নিলে একই সমস্যা হয়। কেবল কমিটি পর্যায়ের মিটিং নয়, স্কুল অ্যাডোলোসেন্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে মিন্সট্রুয়াল হাইজিন কীভাবে মেনে চলবে সেটি বোঝানো হয়। কমিটি মোবিলাইজাররা গিয়ে স্কুল অ্যাডোলোসেন্স প্রোগ্রামে গিয়ে কিশোরী মেয়েদের এমন করে প্রস্তুত করছে যে তারা যেন বাল্যবিবাহের হাত থেকে মুক্তি পায়। পাশাপাশি যদি বিয়ে হয়েও যায়, তারা যেন জানে কী করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা একে সমন্বয় করছি। এখানে আমাদের অনেক ভালো ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান : আমাদের আসলে যে কথাগুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেগুলো হলো, অ্যাডোলোসেন্স ফ্রেন্ডলি যে হেলথ কর্নার, ডা. শরীফ যেটি উল্লেখ করেছেন , বাংলাদেশে মোট ৬০৩টি হেলথ কর্নার রয়েছে। এমসিআরএএইচ-  এই অপারেশন প্ল্যানের মধ্যে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র এবং প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে দুটি ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। সারা দেশে সব ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে আমরা বাস্তবায়ন করব। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আরো ২০০টি ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে কৈশোর বান্ধব এ স্বাস্থ্যসেবা চালু করার প্রক্রিয়ার অব্যাহত রয়েছে। এটি আমি এরমধ্যে বলেছি। আর এই সেবাকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো  উন্নয়নের জন্য আর্থিকভাবে জোগান দেওয়ার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ, সেবাপ্রদানকারী, মৌলিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রদান অব্যাহত রয়েছে, থাকবে। সেই সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে আমাদের কিশোরীদের সেবা তথ্য বিষয়ক হালনাগাদ এমআইএস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি হালনাগাদ নিশ্চিত করার জন্য এবং কৈশোর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য ও প্রচারণার লক্ষ্যে ‘১০ থেকে ১৯  আমরা তোমার পাশে’ সংবলিত লগো ও ইসি মেটেরিয়াল যেমন বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, বুকলেট, ক্লাস রুটিন ইত্যাদি তৈরির উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে। সর্বোপরি দেশব্যাপী কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে, মাঠ পর্যায় পর্যন্ত কর্মপরিধি নির্ধারণসহ ছয়টি কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা সংস্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ব্যবহার উপযোগী অ্যাডোলোসেন্স  নিউজ লেটার প্রকাশিত হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের ব্যবহার উপযোগী ডাব্লিউডাব্লিউডাব্লিউ ডট এডিওআইএনএফওবিডি ডটকম (www.adoinfobd.com) নামের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইটও চালু হয়েছে। এসব কার্যক্রম আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

Advertisement