Beta

সুস্থ ভাবে কাটুক বৈশাখ

১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৩২ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৪১

ফিচার ডেস্ক
পয়লা বৈশাখে সুস্থ থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মোহাম্মদ আবদুস ছাত্তার সরকার ও ডা. সানজিদা হোসেন। ছবি : এনটিভি

আজ পয়লা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি মেতেছে তাদের প্রাণের উৎসবে। আর এই দিনটি যেন অসুস্থতার কারণে মাটি হয়ে না যায়, তাই কিছু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।  

পয়লা বৈশাখে সুস্থতার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪০৭তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. মোহাম্মদ আবদুস ছাত্তার সরকার। বর্তমানে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : এই দিনটিতে আবহাওয়ার বেশ খানিকটা তারতম্য হয়। প্রচণ্ড রোদ, আবার কিছুক্ষণ পর ঝড়ের একটি আশঙ্কা। আবার হয়তো ঝড়ও হয়ে যাচ্ছে। এই সময় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত?

উত্তর : আপনাকে ধন্যবাদ। সবাইকে শুভ নববর্ষ। বৈশাখ মানেই একটি সার্বজনীন উৎসব। এই সময় যারা বের হন, তাদের সাজগোজ থাকে বেশি। যেহেতু সময়টা গরম, তাই পোশাক নির্বাচন খুব জরুরি। আমি মনে করি, মোটা পোশাক যেগুলোতে গরম লাগে বা সিনথেটিক কাপড় যেগুলো রয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া ভালো। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরা ভালো এই আবহাওয়াতে। আর যেহেতু অনেক গরম থাকে, সবাই যেন সঙ্গে পানি নিয়ে বের হোন।  

বৈশাখ মাস মানেই আমরা মনে করি ঝড়- বৃষ্টি হবে। এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এই অবস্থায় যারা বের হবেন, তারা সঙ্গে ছাতা নিতে পারেন। সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানি নেওয়া অবশ্যই উচিত।

এই গরমে মানুষ বাইরে যায়, তৃষ্ণার্ত হয়। পানি, শরবত বা আইসক্রিম জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করে। এই বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার।

প্রশ্ন : পান্তা-ইলিশ কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত?

উত্তর : আসলে এই পার্বণগুলোতো স্বাস্থ্যের বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্ব বহন করে না। অবশ্যই উৎসব করবেন। পান্তা-ইলিশ ছাড়া তো আর বৈশাখ হয় না। ইলিশ তো আসলে আমরা ভেজে খাই। এটি খুব বেশি একটা সমস্যা নয়। তবে যখন বাইরে  খাই, তখন কীভাবে ভাজল এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেকটি সতর্কতার বিষয় হলো পান্তা। ভাতও কোনো সমস্যা নয়। পান্তা ভাতের মধ্যে যে পানিটা দিচ্ছে, সেটি কতটা স্বাস্থ্য সম্মত এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আসলে এই সময় পানি বাহিত অসুখগুলোই বেশি হয়। পান্তা-ইলিশ খাব; তবে এই বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশ্ন : বাইরে যেসব প্রবীণ ও শিশুরা যাচ্ছে, তাদের নিয়ে কোনো আলাদা সতর্কতা রয়েছে কি?

উত্তর : আসলে এরা ঝুঁকিপূর্ণ দল। এদের ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বেশি ভিড়ে বাচ্চাদের আর বয়স্কদের না যাওয়াই ভালো। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাই খাওয়া দাওয়ার বিষয়েও সতর্ক হতে হবে। শিশু ও প্রবীণরা বাইরে গেলে তাদের জন্য বাসা থেকে পানি ও খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ভালো।

আর বাচ্চারা সাধারণত বাইরে গেলে আইসক্রিম খেতে চায়। অথবা তৃষ্ণার্ত হয়ে শরবত খেতে চায়। এ বিষয়েও খুব সাবধান। এর কারণ হলো, গরম আবহাওয়ায় আপনি যখন ঠান্ডা পানির আইসক্রিম খাচ্ছেন, এরপরে দেখা যায় গলায় ব্যথা বা ঠাণ্ডা- কাশি হওয়া শুরু হয়। এর একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। সুতরাং শিশু ও প্রবীণদের জন্য যেন বাসা থেকেই খাবার-দাবার নিয়ে যাই।

প্রশ্ন : এই সময় মেয়েরা সাধারণত সাজতে পছন্দ করে। তবে তাদের ক্ষেত্রে ত্বককে ভালো রাখার জন্য কী পরামর্শ দেবেন?

উত্তর : আসলে সাজগোজ নিয়ে আমার খুব ভালো ধারণা নেই। তবে মেকআপের বিষয়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করাই ভালো।   স্বস্তিদায়ক মেকআপ ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল খাবার খেতে হবে। গরমে বের হলে মোটা বা সিনথেটিক কাপড়ের ড্রেস অথবা শাড়ি না পরাই ভালো। মেকআপের পর ত্বকটাকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

প্রশ্ন : অনেক সময় হিটস্ট্রোক হতে পারে তীব্র গরমে। সেই ক্ষেত্রে কী করণীয়?

উত্তর : কিছু বিষয়ে সাবধাণতা অবলম্বন করা উচিত। খুব ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। এখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে হয়। তাদের গরমের কারণে প্রচুর ঘাম হয়। বেশি গরম হলে সেখানে হিটস্ট্রোক হতে পারে। কেউ কেউ ক্ষণস্থায়ী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। পানিশূন্যতাও একটি বড় সমস্যা। তাই বার বারই বলব, যেখানে ভিড় রয়েছে, সেই জায়গাগুলো যেন এড়িয়ে চলা হয়। আর এই সময় আবার কিছু অসুখও হয়। বিশেষ করে আমরা যখন বাইরের পান্তা-ইলিশ খাচ্ছি,  তাদের অবধারিতভাবে পানি বাহিত রোগ হচ্ছে। কেউ পেট ব্যথা, বমি নিয়ে আসতে পারে। কারো ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করলে পানি বাহিত অসুখ- টাইফয়েড, জন্ডিস বা ভাইরাল হেপাটাইটিস পর্যন্ত হতে পারে।

প্রশ্ন : কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে দ্রুত কী করণীয়?

উত্তর : করণীয় হলো, তাকে ভিড় বা গরম আবহাওয়া থেকে সরিয়ে ঠাণ্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। তার গায়ে যেসব পোশাক রয়েছে সেগুলো যতটুকু সম্ভব খুলে দিতে হবে এবং তাকে বাতাস দিতে হবে। সাধারণ পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যায়। বেশি খারাপ দিকে চলে গেলে বা জ্ঞান ফিরে না পেলে ধারে-কাছের চিকিৎসক বা হাসপাতালে নিতে হবে।

প্রশ্ন : ডাবের পানি পান করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত?

উত্তর : ডাব খাবেন, তবে সতর্ক হয়ে। ডাবের পানিতে কিন্তু অনেক সময় নেশা জাতীয় ওষুধ বা ঘুমের ওষুধ মেশানো থাকে। এটা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ করে যারা বাসে ও লঞ্চে আসা যাওয়া করে তাদের ক্ষেত্রে। এই সময় দুষ্কৃতকারীরা এর সুযোগ নিতে চায়। ডাবের পানি খেতে হলে পরিচিত জায়গাগুলো থেকে খাওয়াই ভালো।

প্রশ্ন : গরমে দীর্ঘমেয়াদি কী অসুখ হতে পারে? সেটি প্রতিকারের উপায় কী?

উত্তর : স্বল্পমেয়াদি কারো বমি হতে পারে। এই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ ওরস্যালাইন খেতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে। ডায়রিয়া অথবা আমাশয়ও যদি হয়, তাহলে সে স্যালাইন খাবে এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে পারে।

বমি হলে তরল খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণ খেতে হবে। কারো যদি দুই/ তিনদিন পরে জ্বর আসে বা প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায়, সে জন্ডিস রয়েছে কি না সেগুলো পরীক্ষা করবে; যথাযথ চিকিৎসা নেবে।

আমরা আসলে যাই বলছি না কেন, এটা আসলে উৎসবের সময়। সবাই একসঙ্গে উদযাপন করবে, আনন্দ করবে। তবে সুস্থভাবে যেন এই উৎসব পালন করতে পারি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর বেশি ভিড় আমরা এড়িয়ে যাব। বেশি ভিড়ে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। শিশুরা অনেক সময় হারিয়ে যায়। অনেক সময় নারীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তাই বেশি ভিড় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো হবে।

Advertisement