Beta

মিটিং চলার সময় ঘুমিয়ে পড়েন? ছয় পরামর্শ

৩০ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৩

ফিচার ডেস্ক
দীর্ঘ সময় চলা মিটিং অনেকের জন্য আনন্দদায়ক নাও হতে পারে। ছবি : সংগৃহীত

অফিসের মিটিং স্বল্প সময়ের জন্য হলে ভালো, তবে অনেক মিটিং চলতে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে। আর এ ধরনের মিটিং অনেকের জন্যই আনন্দদায়ক হয় না। মিটিংয়ে নিজের অজান্তেই মাঝেমধ্যে চোখের পাতা ভার হয়ে আসে।

দেখা যায়, এ সময় জরুরি কোনো আলোচনা হলে ঘুমের কারণে তাতে মনোযোগ দেওয়া যায় না। তাই এ সমস্যা এড়াতে বিবিসি বাংলার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউনএনবি জানিয়েছে কিছু উপায়।

১. মিটিংয়ের সঠিক সময় নির্বাচন

দিনের শুরুতে সকালে যেকোনো কাজে মানুষের আগ্রহ, মনোযোগ সবই থাকে ভরপুর। তাই মিটিং সকালে ডাকাই শ্রেয়। আর দুপুরে খাবারের পরপর সময়টা তো একেবারে ‘ডেড জোন’ বা ‘নিষ্প্রাণ সময়’। এ সময়ে মানুষ ক্লান্ত থাকে, তাই এ সময় কোনো মিটিং না ডাকাই শ্রেয়।

আবার বলা যায়, মানুষ আসলে ক্লান্ত হয়ে মিটিংয়ে ঘুমায় না। বরং এক ঘেয়েমি আর বিরক্তি থেকে ঘুমায়।

২. সঠিক স্থান

মিটিংয়ের জন্য স্থানেরও একটি আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। সচরাচর যে জায়গায় মিটিং হয় না, হঠাৎ তেমন জায়গায় মিটিং ডাকলে মানুষের মধ্যে একটা সতর্ক ভাব কাজ করে। এ ছাড়া, ‘স্ট্যান্ডিং মিটিং’ বা দাঁড়িয়েই মিটিং সেরে নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয় কখনো কখনো।

৩. সঠিক প্রস্তুতি

মিটিংয়ে ঘুমিয়ে না পড়ার জন্য প্রস্তুতিও একটা ব্যাপার বটে। যারা ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবকাশ পেতে পারে তাদের না ডাকাই শ্রেয়। অর্থাৎ মিটিংয়ে যাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অতি আবশ্যক শুধু তাদেরই ডাকা যুক্তিযুক্ত। দরকার না থাকলে মিটিংয়ে এসে বসে থাকার কোনো মানে হয় না।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, মার্কিন কর্মীরা মনে করেন যে তাদের নেতাদের মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মিটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসে।

৪. মিটিংয়ে হালকা নাশতা

মিটিংয়ে হালকা একটু নাশতা দিলে এটি একদিকে কর্মীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেওয়ার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে এতে, ঘুমও কাটানো সহজ হয়।

৫. মিটিংয়ে সম্পৃক্ততা বোধ করা  

কোনো আলোচনায় কেউ যদি সত্যিই সম্পৃক্ত হয়ে যায়,তার জন্য ঘুমিয়ে পড়া মুশকিল। তাই মিটিংয়ে কথা বলার মাধ্যমে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরা হয়। আর কথা না বলেও অনেক সময় ঘাড় নাড়িয়ে বা হাত নাড়িয়ে ইশারা-ইঙ্গিতেও মিটিংয়ের বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়ে সম্পৃক্ত রাখা যায়। আবার ঘুম তাড়াতে মিটিংয়ের নোট নেওয়াও একটা ভালো উপায় হতে পারে।

৬. হালকা একটু নাড়া-চাড়া

আর কোনো উপায়েই যদি ঘুমকে ঠেকিয়ে রাখা না যায়, তাহলে কোনো উপায়ে অন্তত নিজের হাতগুলোতে ব্যস্ত রাখুন। আর তা করতে না পারলে, অন্তত নিজের গায়ে একটা চিমটি কেটে দিন। তাতেও ঘুম-ঘুম ভাবটা কাটবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সব উপায় ব্যর্থ হলে …

সব রকম চেষ্টা করার পরও যদি ঘুমকে ঠেকিয়ে রাখা না যায়, যদি ঘুমে আপনি একেবারে নিমজ্জিত হয়ে যেতে থাকেন তাহলে বরং কোনো একটা ছুতো ধরে উঠে চলে যান। মিটিংয়ে মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে নিঃশব্দে চুপচাপ বেরিয়ে গেলে ঘুম থেকে হয়তো মুক্তি মিলতে পারে।

Advertisement