Beta

কারাভোগ থেকে অভিনয়, ঝাঁপি খুললেন আসিফ আকবর

২১ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৪ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৬

আসিফ আকবর। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। ২০ বছর আগে তারকা হওয়ার আগে যেভাবে তিনি ঈদ উদযাপন করতেন, ঠিক এখনো সাধারণভাবেই ঈদে কাটে বলে জানান এই শিল্পী। চলতি বছরটি আসিফের জন্য নানা কারণেই বিশেষ হয়ে উঠেছে। এর কারণ এ বছরই তিনি প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আর এ বছরই হঠাৎ কারাভোগও করেছেন। ঈদ, চলচ্চিত্রে কাজ ও কারাগার নানা বিষয়েই আসিফ আকবর কথা বলেছেন এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে।

এনটিভি অনলাইন : ঈদের দিন আপনার পরিকল্পনা কী?

আসিফ আকবর : ঈদ ঢাকাতেই করব। বাসায় থাকব। কুমিল্লায় (আসিফের বাড়ি) কোরবানি দেওয়া হবে।

এনটিভি অনলাইন : তারকা হওয়ার পর ঈদ উদযাপন কি বদলে গেছে?

 আসিফ আকবর : একদমই না। সাধারণ আর দশটা মানুষের মতোই আমার ঈদ কাটে।

এনটিভি অনলাইন : গত কয়েক বছর ধরে আপনাকে টিভি লাইভ অনুষ্ঠানে গান করতে দেখা যায়নি। শুনলাম এবার ঈদে নাকি গান গাইবেন?

আসিফ আকবর : টানা তিন বছর টিভি অনুষ্ঠানে সরাসরি গান করিনি। এবার নাগরিক টেলিভিশনে সরাসরি গান গাইব।

এনটিভি অনলাইন : আপনার টিভিতে সরাসরি গান গাইতে কি অনীহা আছে?

আসিফ আকবর : আসলে রাত ১১টার সময় কে গান গান গাইতে চায়? আর লাইভ গানের অনুষ্ঠান সাধারণত রাতেই হয়।

এনটিভি অনলাইন : সৈকত নাসির পরিচালিত ‘ভিআইপি’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। প্রথমে এটা ওয়েব সিরিজ, এরপর ওয়েব ফিল্ম করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এখন শুনছি এটা পূর্ণদের্ঘ্য ছবি হবে। আপনার প্রস্তুতি কেমন?

আসিফ আকবর : এটা ঠিক, কাজটি নিয়ে প্রথম চিন্তাধারা ভিন্ন ছিল পরিচালকের। ছবির কাস্টিং দেখে পরে আমরা ভাবলাম, ছবিটা মানুষ সিনেমা হলেও দেখতে যাবে। তাহলে কেন এটা ওয়েব ফিল্ম হবে! পরে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়।

কোনো কাজের প্রস্তুতি আমি কখনই নিই না। পরিচালকনির্ভর আর্টিস্ট আমি। পরিচালক যেভাবে লুক দিতে বলে, আমি সেভাবে ক্যামেরার সামনে লুক দিই। পরিচালকের ইচ্ছের বাইরে আমি কোনো কাজ করি না। এমনকি একটা শট দিয়ে এসে, ক্যামেরায় সেটা কীভাবে ধারণ হলো, সেটাও আমি কখনো দেখি না।

তবে কিছুদিন আগে সৈকত নাসিরের পরিচালনায় আমার গানের একটি ভিডিওর শুটিং করেছি। গানটি ছিল ‘ও কন্যা তোমারে’। বলতে পারেন, এই গানের ভিডিওটা ‘ভিআইপি’ ছবির শুটিংয়ের একটা প্রস্তুতি। কারণ, ভিডিওতে আমাকে ডিবি পুলিশের ভূমিকায় দেখা যাবে। অন্যদিকে, ছবিতেও আমি একজন সিআইডি অফিসারে ভূমিকায় থাকব।

এনটিভি অনলাইন : দীর্ঘ ২০ বছর সংগীত জীবনের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন আপনি। সব সময় অভিনয়কে আপনি ‘না’ বলেছেন। হঠাৎ ‘হ্যাঁ’ বলার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

আসিফ আকবর : আসলে সৈকত নাসির আমাকে কনভিন্স করতে পেরেছেন। আমি বলব, তিনি অনেক দামি ডিরেক্টর। তাঁর সঙ্গে কাজ করে কমফোর্ট ফিল করি আমি। ‘ভিআইপি’ অ্যাকশন চলচ্চিত্র। রহস্য আছে। গোয়েন্দাগিরি আছে। আমি সিআইডি অফিসার। সন্ত্রাসীর সঙ্গে খেলাধুলা হবে (হাসি)। এ ছাড়া অনেক সামাজিক বার্তা থাকবে ছবিতে।

এনটিভি অনলাইন : ‘গহীনের গান’ শিরোনামে পূর্ণদৈর্ঘ্য মিউজিক্যাল ফিল্মেও অভিনয় করেছেন আপনি সম্প্রতি। আপনার গাওয়া নয়টি গানের ওপর ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

আসিফ আকবর : প্রথমে পরিকল্পনা ছিল একটা প্রামাণ্যচিত্র করা হবে। পরে পরিকল্পনা করা হয় মিউজিক্যাল ফিল্ম বানানো হবে। সেখানে আমার নয়টা গান থাকবে। সাধারণ মানুষ থেকে স্টার হওয়ার গল্প ফিল্মটিতে আছে। ছবিতে গায়ক ও হিরো মনে হবে না আমাকে। মানুষ মনে হবে। একজন নায়কের সাধারণ জীবনযাপন এখানে দেখানো হবে। ছবিতে সৈয়দ হাসান ইমামও অভিনয় করেছেন। আমার বিপরীতে আছেন তানজিকা আমিন।

এনটিভি অনলাইন : শুটিংয়ে তো আপনি বৃষ্টিতেও ভিজেছিলেন…

আসিফ আকবর : বৃষ্টি কিংবা রোদ আমার কিছু মনে হয় না। শুটিং করতে হয় তাই করি।

এনটিভি অনলাইন : সব সময় প্রেম-বিরহের গান আপনি বেশি গান। কারণ কী?

আসিফ আকবর : বিরহ কিংবা প্রেমের গানে আমার কোনো চয়েজ নেই। আমি প্রফেশনাল আর্টিস্ট। আমি তো আর গান লিখি না। যেভাবে সবকিছুর আয়োজন করা হয়, সেভাবে গান গাই। আমাকে দিয়ে তো আর উচ্চাঙ্গসংগীত হবে না।

এনটিভি অনলাইন : নতুন গান রেকর্ডিংয়ের আগে কি অনুশীলন করা হয়?

আসিফ আকবর : একদম না। সত্যি বলতে, গান অনুশীলন করি না এখন। প্রস্তুতি ছাড়াই রেকর্ডিং করি। রেকর্ডিংও বেশি সময় নেই না। অনেক সময় ১০ মিনিটে গান রেকর্ড হয়।

এনটিভি অনলাইন : আপনার প্রিয় শিল্পী কারা?

আসিফ আকবর : সৈয়দ আবদুল হাদী ও জেমস।

এনটিভি অনলাইন : এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলি। গত জুনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে সুরকার শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় আপনি গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে ছিলেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?

আসিফ আকবর : পাঁচ দিন জেলে ছিলাম। মোবাইলমুক্ত, সেলফিমুক্ত ও যন্ত্রণামুক্ত ছিলাম। ভালোই ছিলাম আমি। সেখানে সুপার সময় কেটেছে। আড্ডা দিতাম। দাবা খেলতাম। আমার সঙ্গে যারা ছিল, আমাকে তারা গান শোনাত। এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আছে। লক্ষ করেছি সবাই আমার ভক্ত।

প্রথম যেদিন জেলের ভেতরে ঢুকলাম দেখলাম সবাই নামাজ পড়ছে। কিছুক্ষণ আমি চুপচাপ ছিলাম। পরে খাতির হয়ে গিয়েছিল সবার সঙ্গে।

এনটিভি অনলাইন : শেষ প্রশ্ন। লম্বা সংগীতজীবনে কখনো আপনার অতৃপ্তি কাজ করেছে কি?

আসিফ আকবর : আমি সব সময় কাজে তৃপ্ত। আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ ও ইনশাআল্লাহ বলা শিখেছি আমি। কখনো অতৃপ্তি ছিল না। ভবিষ্যতেও থাকবে না। প্রতিদিন আমার নতুন গান। নতুন সূর্য। নতুন জীবন। আমি স্বপ্ন দেখি না। লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই সব সময়। সব কাজ আমি করি না। সব কাজে আমি অভ্যস্তও না। তবে আমি যেটা করতে চাইব, সেটা করে জিতবই।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement