Beta

শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাংলাদেশের মানচিত্রে উদ্ভাসিত মুখ

০৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৩২

মিল্টন বিশ্বাস

এক বিশাল উত্তরাধিকার, ব্যাপ্ত দেশপ্রেম ও বিজয়ের মুকুট সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পদচারণা শুরু হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যে ষড়যন্ত্রের যে জাল ছিন্ন হয়ে যায়, আবার তা বোনা শুরু হয়। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো স্রোতের দিকে টেনে নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দি করা হয়। এক সপ্তাহ পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। বন্দি করা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানসহ আরো অনেক নেতাকে। বাংলাদেশ যেন অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, তাই ’৭১-এর পরীক্ষিত চারজন নেতাকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায়, বন্দি অবস্থায় কারাগারের ভেতর হত্যা করা হয় ৩ নভেম্বর। অর্থাৎ হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, প্রথম অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং প্রথম স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ পুনর্বাসনমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।

একাত্তরে প্রদীপ্ত শিখার মতো এই জাতীয় নেতারা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দৃঢ় হাতে যুদ্ধের হাল ধরেছিলেন। লাখ লাখ শহীদের আত্মদান, আর্তনাদ, হাহাকার, বেদনা আর অশ্রু পেরিয়ে তারপর আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পতাকা পেয়েছি সেদিনের সেই কীর্তিমানদের সাংগঠনিক তৎপরতায়। পৃথিবীর বুকে তাঁদের অসামান্য কীর্তির গর্বিত সন্তান আমরা।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক বছর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কিছু সময় কাটানোর অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তাঁর ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ গ্রন্থে। সেখানে কীর্তিমানদের স্মরণ করা হয়েছে নিম্নরূপে :

‘আমরা এখান থেকে গেলাম জাতীয় চার নেতাকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল, সেই জায়গায়। সেখানে হেঁটেই গেলাম। আব্বার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান এই চারজনকে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ঢুকে হত্যা করার ঘটনা সভ্য জগতে বোধ হয় এই প্রথম। বাইরে থেকে অস্ত্রধারীরা ঢুকে একের পর এক হত্যা করে এই চার নেতাকে। এখানে বেদিতে ফুল দিলাম। চারটা স্তম্ভে চারজনের ভাস্কর্য করা হয়েছে। পানির ফোয়ারার ভেতরে এই ভাস্কর্যগুলো তৈরি করা হয়েছে। এখনো গরাদে বুলেটের চিহ্ন রয়ে গেছে। দেয়ালের গায়ে যে বুলেটের চিহ্ন ছিল, তা মেরামত করা হয়েছিল বহু আগেই। সেই চিহ্ন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাজউদ্দীন সাহেবের দুই মেয়ে রিমি ও মিমি, মনসুর আলী সাহেবের ছেলে মো. নাসিম এবং কামরুজ্জামান সাহেবের ছেলে রাজশাহীর বর্তমান মেয়র লিটন উপস্থিত ছিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাজউদ্দীন সাহেব প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই তাঁরা স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। প্রতিটি সংগ্রামে অংশ নিয়ে জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় অর্জন করেছেন। এই মুক্তিযুদ্ধের বিজয়টা ঘাতকের দল মেনে নিতে পারেনি; যে কারণে পরিকল্পিতভাবে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে আর ৩ নভেম্বর জেলখানায় এই হত্যাকা- ঘটানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দালালরা তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এই জিঘাংসা চরিতার্থ করে। জাতি চিরদিন এই খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের ঘৃণা করে যাবে।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীনের বাসায় পাকিস্তানি সেনারা আক্রমণ করেছিল। সেই রাতে তাঁর স্ত্রী ছোট ছেলে আর মেয়েটিকে নিয়ে ভাড়াটিয়া সেজে পাকিস্তান আর্মির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। ২৬ তারিখ বাসার দেয়াল টপকে এদিক-সেদিক দুই রাত থেকে একপর্যায়ে এক ভদ্রলোকের বাড়িতে যান জোহরা তাজউদ্দীন। সেই ভদ্রলোক বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারেন নি। তিনি তাঁদের আরো নিরাপদ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাস্তার সামনে গিয়ে বলেন, আপনি একটু দাঁড়ান, আমি চাবি ফেলে এসেছি। চাবিটা নিয়ে এক মিনিটের মধ্যেই আসছি। তিনি যে ভেতরে গিয়েছিলেন আর দরজা খোলেন নি। জোহরা তাজউদ্দীন নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশে রাখা ইটের পাঁজার পেছনে ছোট বাচ্চা দুটিকে নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন বাইরে, তখন কারফিউ ছিল ঢাকা শহরে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের চেষ্টাসহ মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল বাংলাদেশ মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে। এই নেতৃত্বের পুরোভাগে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি থাকায় তাদের সমস্ত ক্রোধ এবং আক্রোশের মূল মানুষে পরিণত হন তাজউদ্দীন আহমদ। সে সময়  পাকিস্তানি সেনারা তাজউদ্দীনকে হিন্দু ‘ত্যাজারাম সিং’ ও ভারতের গুপ্তচর বলে অভিহিত করেছে। প্রচার করা হয়েছিল তিনি আট বছর বয়সে নাম পাল্টে তাজউদ্দীন হয়েছেন। তারপর আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগে ঢুকে পাকিস্তানকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন। ছাত্রদের মাথা খারাপ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ, যার মূল ষড়যন্ত্রকারী তিনি। তাঁর প্রতি আক্রোশ আর ঘৃণায় পাকিস্তানি সেনাদের চোখ জ্বলজ্বল করত। তারা বলত পাকিস্তানকে ভাঙতে চান তাজউদ্দীন কারণ তিনি হিন্দু। মুক্তিসংগ্রামে তাজউদ্দীনের সাহসী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে উঠেছিলেন অন্য তিনজন নেতাও। সে সময় এই চার নেতার ব্যক্তিগত সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, ক্রোধ, প্রতিশোধ- এগুলোর সবই ধাবিত হয়েছিল পাকিস্তানি শাসক তথা শত্রুর বিরুদ্ধে।

বিজয়ের পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত চারজনই এমন সজ্জন ও নির্বিরোধ প্রকৃতির বিশিষ্ট ভদ্রলোক ছিলেন যে, তাঁদের সঙ্গে কারো শত্রুতার প্রশ্নই আসে না। তাঁদের মতো নির্দোষ প্রকৃতির ও অক্ষতিকর মানুষ রাজনীতিকদের মধ্যে কমই দেখা যায়। তাঁদের সরল জীবনযাপনও ছিল মুগ্ধ করার মতো। ৩ নভেম্বর জেল হত্যার পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও হত্যাকারী কেউই চার রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না। তাজউদ্দীন আহমদ যখন অর্থমন্ত্রী; তখন বলতেন, ‘আমরা দেশ শাসন করছি, দেশের মঙ্গল চাই, কাজেই আমাদের দুর্বলতা আছে, এগুলো মানা উচিত। স্বীকার করা উচিত। আমরা তো সব জানি না, তাই শিখতে হবে।’ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেও তাঁরা কোনো নিন্দিত কাজ করেননি। অনেকেই সৈয়দ নজরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে দেখেছেন সকালে তিনি গেঞ্জি গায়ে দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন। মধ্যবিত্তের স্নিগ্ধ আচরণ ছিল তাঁর মধ্যে। বাংলা ভাষায় কামরুজ্জামান চমৎকার বক্তৃতা করতেন। সুকণ্ঠের অধিকারী তিনি গান গাইতেও পারতেন। মনসুর আলী ছিলেন শান্ত, নির্বিরোধ। এ ধরনের মানুষের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু থাকার কথা নয়; ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

ভাষা আন্দোলন থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে শোষণবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, এই চার নেতা তখন থেকে সেই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁরা সকলে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের বিপক্ষে। কারণ আমলারা বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে দলিত করছিল। এজন্য বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে তাঁদের কাজ ছিল সংঘবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তাঁদের লড়াই ছিল বাঙালির ন্যায্য দাবির লড়াই, স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে আপসহীন পথযাত্রা। ষাটের দশক থেকে এই চার জাতীয় নেতা তৎকালীন পূর্ববাংলার সমগ্র জনগণকে একটি অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন; মানুষকে দাবি আদায়ের বিষয়ে আশাবাদী করে তুলেছিলেন। ইসলাম ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান-বিশ্বাসী মানুষকে সার্বজনীন গণতান্ত্রিক চেতনায় উজ্জীবিত করার কৃতিত্ব তাঁদের। আর মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের নেতৃত্ব সারা বিশ্ববাসীর কাছে ছিল সুউচ্চ ও মহান। স্বাধীনতার পরে সরকার গঠিত হলে তাঁরা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হন। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে মানুষের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত ছিলেন তাঁরা। ভালো রাজনৈতিক মাত্রই ভালো প্রশাসক হবেন এটা ঠিক নয়; তবে তাঁরা সে যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পেরেছিলেন। কারণ তাঁরা কেউ ষাটের দশকের আদর্শবাদী রাজনীতির বাইরে চলে যান নি। বরং একটি অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন; বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে বাকশালের পতাকাতলে একত্রিত হয়েছিলেন। কারণ তখনও বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের দেশ। কিন্তু পুরোনো শত্রুরা সক্রিয় ছিল তখনো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও সৌদি আরব বঙ্গবন্ধু সরকারের নীতিকে পছন্দ করত না। দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শত্রুদের নানান তৎপরতা চলতে থাকে। এরই পরিণতিতে ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা ও ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা। এর পরই পাকিস্তানি ঘরানার ইসলামি রাজনীতি পুনর্বহাল হয় বাংলাদেশে।

ইতিহাসের জঘন্য ও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৭৫ সালেই লালবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

কিন্তু ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে অন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের খালাস দেওয়া হয়। তবে জেলহত্যা মামলায় খালাস পেলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে পলাতক অপর আট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামি সম্পর্কে কোনো মতামত না দেওয়ায় তাদের দণ্ড বহাল আছে বলে আইনজীবীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে জেল হত্যাকাণ্ডের সুদীর্ঘ সময় পর এর বিচারের রায় হলেও জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যসহ আমরা এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসনের রায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছি। একই সঙ্গে রায়টি প্রত্যাখ্যানও করা হয়েছে। কারণ জেলহত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। জাতির ইতিহাসের নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও পুনর্বিচার বর্তমান প্রজন্মের দাবি বলেই বর্তমান সরকার সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সরকার এখন ক্ষমতায়। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল, ‘জেলখানায় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার করা হবে।’ জেলহত্যার নির্মম বলি মহান ব্যক্তিরা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির সমর্থক। তাঁদের প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisement