Beta

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ চার সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

১৭ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৪

অনলাইন ডেস্ক

বিচারবহির্ভূতভাবে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর হত্যাসহ নির্যাতন চালানোর ঘটনায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ চার সামরিক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং লাইংসহ চার সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এ ছাড়া বাকি তিন সেনা কর্মকর্তা হলেন উপ-সেনাপ্রধান সোয়ে উইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ওই ঘোষণায় মিয়ানমারের পরিবর্তে ‘বার্মা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এ নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে বার্মিজ সেনাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাখাইনের মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস গণহত্যা চালানোর প্রধান হোতা হিসেবে পরিচিত মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং লাইং। তাঁর নেতৃত্বেই রোহিঙ্গা নিধনে বেপরোয়া অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই ঘটনার দুই বছর পর এবার সেই সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই বছর আগে রাখাইনের ইনদিন গ্রামে বিচারবহির্ভূত হত্যায় সেনাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এই চার কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপ  করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে রাখাইনের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।

এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস কার্কপ্যাট্রিক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) একটি প্রতিনিধিদল।

সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, আইসিসি প্রতিনিধিদলটি এখানে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবে।

আইসিসি প্রসিকিউটর এরই মধ্যে তাঁর বিচারকদের নির্বাসন, অন্যান্য অমানবিক কাজ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত অনুমোদন করার অনুরোধ করেছেন।

আইসিসির মতে, মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষর না করলেও রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে যে অপরাধ হয়েছে, তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশের ওপর। তাই রোম সনদ অনুযায়ী এ বিষয়ে আদালত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবেন।

Advertisement