Beta

দুবাইয়ের নাইটক্লাব থেকে চার বাংলাদেশি কিশোরী উদ্ধার

৩০ মে ২০১৯, ২২:৩৩

অনলাইন ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি নাইটক্লাব থেকে চার বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাজের সন্ধানে যাওয়া ওই চার কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছিল। আল মুরাকাব্বাত এলাকার একটি নাইটক্লাব থেকে উদ্ধারের পর গত মঙ্গলবার (২৮ মে) তাদের আদালতে তোলা হয়।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, ১৬-১৭ বছর বয়সী এই কিশোরীদের নর্তকী ও যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করানোর জন্য গত বছর বাংলাদেশ থেকে আনা হয়।

দুবাইয়ের একটি হোটেলের নাইটক্লাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরী নর্তকী আছে, দুবাই পুলিশের কাছে চলতি বছরের মার্চে এমন তথ্য আসে।

এরপর পুলিশ ওই নাইটক্লাবে অভিযান চালিয়ে ১৯ নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ওই নারীরা নর্তকী ও যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের কম। 

পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমরা ওই নাইটক্লাবে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার করে দুবাইয়ের নারী ও শিশু আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছি।’

পাসপোর্টে বয়স বাড়িয়ে এই নারীদের আরব আমিরাতে আনা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী জানায়, পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য সে দুবাইয়ে আসতে রাজি হয়।

এক ব্যক্তি তার পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে বিমান ভাড়ার টাকা দিয়ে তাকে আরব আমিরাতে নিয়ে যায়। পরে দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর তাকে অন্য মেয়েদের সঙ্গে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ওই কিশোরী জানিয়েছে।

ওই কিশোরী আরো বলে, ‘পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা দূর করতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করতে রাজি হয়েছিলাম।’

‘আরব আমিরাতে পৌঁছানোর চার দিন পর আমাদের একটি নাইটক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নাইটক্লাবে নর্তকী হিসেবে কাজ করতে বলা হয়। আর প্রতি মাসে তিনজন কাস্টমারের সঙ্গে অবৈধ কাজ করার নির্দেশ দেয়।’

নাইটক্লাবের ব্যবস্থাপকই সবকিছু দেখভাল করতেন বলে ওই কিশোরী জানায়।

গত বছরের বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে আনা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন তাঁরা। আগামী ১৮ জুন সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

Advertisement