Beta

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের অস্ত্র ‘বিরল মাটি’

২৯ মে ২০১৯, ১৪:৪৭ | আপডেট: ২৯ মে ২০১৯, ১৪:৪৯

অনলাইন ডেস্ক

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে ‘বিরল মাটি’কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে চীন। চীনের ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদপত্র পিপল‌’স ডেইলিসহ দেশটির শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো এমন খবর ফলাওভাবে প্রচার করছে।

বিরল মাটি কী?

বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাতি ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হওয়া এই বিরল মাটি ১৭টি রাসায়নিক উপাদানসমৃদ্ধ একটি খনিজ পদার্থ। বৈদ্যুতিক যানবাহনে ব্যবহৃত হালকা ব্যাটারি ও মোটর তৈরিতে বিরল মাটি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিরল মাটির চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করা হয়। স্মার্টফোনের এলইডি লাইট (লাইট ইমিটিং ডায়োডস) ও খেলার মাঠের স্কোরবোর্ডে ব্যবহৃত বাতি তৈরিতে লাগে এই বিরল মাটি।  

বিরল মাটির দখল কার হাতে?

বিরল মাটি উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করার প্রায় সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের ৭১ শতাংশ বিরল মাটি উৎপাদন করেছে চীন। ২০১৮ সালে এক লাখ ২০ হাজার টন বিরল মাটি উৎপাদন করেছে চীন। উৎপাদনের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে যে বিরল মাটি উৎপাদন করেছে, তা চীনের তিন ভাগের এক ভাগ। চীনের বাইরে বিরল মাটির বড় মজুদকারী দেশগুলো হলো ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও রাশিয়া।

নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক ও ডেটাসেবা প্রদানকারী এবং মিডিয়া কোম্পানি ব্লুমবার্গ জানায়, আজ বুধবার পিপল’স ডেইলির সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যযুদ্ধে চীনকে লড়াইয়ের ক্ষমতাকে হালকাভাবে না নিতে বলা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়তে বিরল একটি চীনা প্রবচন উল্লেখ করা হয়, যার অর্থ দাঁড়ায়—‘পরে বলো না যে তোমাকে সতর্ক করা হয়নি।’

১৯৬২ সালে ভারতের সঙ্গে লড়াইয়ের আগে ঠিক এই প্রবচনটি ব্যবহার করেছিল পিপল’স ডেইলি। এরপর ১৯৭৯ সালে চীন ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের আগেও এই প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে চীন বিরল মাটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন নয় বলছে পিপল’স ডেইলি।

ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আরেক মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসের প্রধান সম্পাদক এক টুইটবার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মাটি রপ্তানি কমানোর পরিকল্পনা করছে চীন।

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিসিটিভি জানায়, চীন থেকে আমদানি করা বিরল মাটি ব্যবহার করে তৈরি পণ্য দিয়ে চীনের উন্নয়নকেই ব্যাহত করার বিষয়টি চীনা জনগণ ভালোভাবে নেবে না।

চলমান বাণিজ্য সংকটে তাই বিরল মাটি এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে চীনের একটি বিরল মাটি উত্তোলক কোম্পানি পরিদর্শন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা বিরল মাটির ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করলেও, চীনের বিরল মাটিসহ কয়েকটি খনিজ পদার্থের ওপর শুল্ক বসায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে খনিজ ধাতব পদার্থ আমদানিতে আগের ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে চীন।

Advertisement