Beta

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ষষ্ঠ দফায় ৫৯ আসনে ভোট চলছে

১২ মে ২০১৯, ০৭:৪০ | আপডেট: ১২ মে ২০১৯, ০৯:৫৯

কলকাতা সংবাদদাতা

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ দফায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে আজ রোববার। এরই মধ্যে লোকসভার ৪২৫টি আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ১১৮টি আসন। ষষ্ঠ দফায় সাতটি রাজ্যের ৫৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। শেষ দফায় ভোট হবে ১৯ মে। এরপর ২৩ মে ফল জানা যাবে।

আজ সকাল থেকে ভোট গ্রহণ হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের ১৪টি, হরিয়ানার ১০টি, পশ্চিমবঙ্গের আটটি, বিহারের আটটি, মধ্যপ্রদেশের আটটি, ঝাড়খন্ডের চারটি ও রাজধানী দিল্লির সাতটি আসনে। এই দফায় স্বভাবতই সবার নজর থাকবে রাজধানী দিল্লির দিকে।

দিল্লিতে কংগ্রেস ও আম-আদমি পার্টির মধ্যে জোট না হওয়ায় সাতটি কেন্দ্রেই লড়াই হবে ত্রিমুখী। কংগ্রেস ও আম-আদমির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে সাতটি আসনে বিজেপি বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে প্রতিটি দলেই রয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। ২০১৪ সালে রাজধানী দিল্লির এই সাতটি কেন্দ্রে বিজেপি এবং আম-আদমি (আপ) পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। সেবার ৪৬.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সাতটি আসনেই জয় পায় বিজেপি। ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পায় আপ। এবং মাত্র ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে কংগ্রেস তৃতীয় স্থান দখল করে। সেখানে দাঁড়িয়ে এবার আপ-কংগ্রেস আসন সমঝোতা হলে যে ফল অন্য রকম হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এবার সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র হলো পূর্ব দিল্লি লোকসভা আসনটি। এই আসনে এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। আপের প্রার্থী আতিশি মারলনা এবং কংগ্রেসের প্রার্থী অরবিন্দর সিং লাভলি।

দিল্লির চাঁদনিচক লোকসভা কেন্দ্রে এবারে বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী তথা দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। আপ প্রার্থী করেছে পঙ্কজ গুপ্তাকে এবং কংগ্রেসের টিকেটে প্রার্থী হয়েছেন জি পি আগরওয়াল।

উত্তর-পূর্ব দিল্লির আসনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন গতবারের বিদায়ী সংসদ সদস্য ও ভোজপুরি অভিনেতা গায়ক মনোজ তেওয়ারি। এখানে কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন দিল্লির সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য থাকা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিত, আর আপের প্রার্থী দিলীপ পান্ডে।

নয়াদিল্লি কেন্দ্রে গতবারের বিদায়ী সংসদ সদস্য মিনাক্ষি লেখির প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মাকেন। আপের প্রার্থী ব্রিজেশ গোয়াল।

দিল্লির উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রে গতবারের জয়ী সংসদ সদস্য উদিত রাজের পরিবর্তে বিজেপি এবারে প্রার্থী করেছে প্রসিদ্ধ গায়ক হনস রাজ হনসকে। তবে বিজেপির টিকেট না পেয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন উদিত। যদিও কংগ্রেস এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে রাজেশ লিলাথিয়াকে। আপের প্রার্থী হয়েছেন গুগুন রাঙ্গা।

এবারের ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে অন্যতম কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই কেন্দ্রটিতে এবার জোরদার লড়াই হতে চলেছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের সঙ্গে মূল লড়াই হবে কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের।

এ ছাড়া উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর কেন্দ্রে এবার ভাগ্য পরীক্ষা হবে বিজেপির কেন্দ্রীয় শিশু ও কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধীর। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী ও গান্ধী পরিবারের সদস্য মানেকা গান্ধীর ছেলে বরুণ গান্ধী। এবারে মা-ছেলের মধ্যে আসন বদল হয়েছে। সুলতানপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন মানেকা গান্ধী আর মানেকার জয়ী কেন্দ্র পিলভিট থেকে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন বরুণ গান্ধী। তবে সুলতানপুর কেন্দ্রটি কোনো রাজনৈতিক দলের কাছেই শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত নয়। এই কেন্দ্রে সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বসপা) প্রার্থী হয়েছেন চন্দ্রভদ্র সিং।

হিন্দিবলয় বলে পরিচিত উত্তরপ্রদেশের আজমগড় কেন্দ্রে এবার সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিং যাদব। মূলত যাদব পরিবারের এই শক্ত ঘাঁটিতে ধস নামাতে বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে জনপ্রিয় ভোজপুরি অভিনেতা দীনেশ লাল যাদবকে।

উত্তরপ্রদেশে এবারে প্রতিটি পর্বেই শক্ত লড়াইয়ের মুখে রয়েছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে এ আসনে সপা-বসপা-আরএলডি জোট না হওয়ার কারণে রাজ্যটির ৮০টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই ৭১টি আসনে জয় পেয়েছিল। আর বিজেপির সহযোগী আপনা দল পেয়েছিল দুটি আসন। এবারে পরিস্থিতি ভিন্ন। সপা-বসপা-আরএলডির মধ্যে আসন সমঝোতা হওয়ায় বিজেপির কাছে এই রাজ্যে এবারে  লড়াই বেশ শক্ত।

হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ কেন্দ্রে এবারে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভুপিন্দর শিং হুদা। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রমেশ চন্দ্র কশিক, জননায়ক জনতা পার্টির (জজপি) প্রার্থী হয়েছেন দ্বিগ্বিজয় চৌতলা, ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল লোক দলের প্রার্থী হয়েছেন সুরিন্দর চিকারা।

ঝাড়খন্ডের ধানবাদ কেন্দ্রে এবারে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রে জিতে আসা পশুপতি নাথ সিং।

মধ্যপ্রদেশের গুনা কেন্দ্রটি বরাবরই গোয়ালিয়র রাজপরিবার সিন্ধিয়াদের দখলে। এই কেন্দ্রের বর্তমান সংসদ সদস্য কংগ্রেসের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। একটা সময়ে তাঁর বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়া এবং ঠাকুমা বিজয়রাজ সিন্ধিয়া এই কেন্দ্র দখলে রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে বিজেপির উত্থানে এই গুনা কেন্দ্রে জ্যোতিরাদিত্যর জয়ের মার্জিন কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৮৬ হাজার।

বিহারের পূর্ব চম্পাহরন কেন্দ্র থেকে এবারে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রাধা মোহন সিং। গতবার তিনি প্রায় দুই লাখ ভোটে আরজেডি প্রার্থী বিনোদ কুমার শ্রীবাস্তবকে হারিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিএর সাবেক শরিক দল আরএলএসপির আকাশ কুমার সিং।

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া কেন্দ্রটি এবার নানাদিক থেকে আলোচিত। ১৯৮০ সাল থেকে এই কেন্দ্রটি সিপিআইএমের দখলে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে এই কেন্দ্রের হেভিওয়েট সিপিআইএম প্রার্থী  বাসুদেব আচারিয়াকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী মুনমুন সেন। এবারে মুনমুন সেনকে আসানসোল কেন্দ্রে প্রার্থী করে তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। সিপিআইএম তাদের প্রার্থী করেছে অমিয় পাত্রকে। বিজেপি প্রার্থী করেছে সুভাষ সরকারকে।

পশ্চিমবঙ্গের ঘাটাল কেন্দ্রে এবারে তৃণমূলের প্রার্থী গতবারের বিদায়ী সংসদ সদস্য অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব)। এখানে সিপিআইএমের প্রার্থী তপন গাঙ্গুলী, কংগ্রেসের খোন্দকর মহম্মদ সইফুল্লাহ। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষ।

Advertisement