Beta

সালমান খানকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল!

১০ জুন ২০১৮, ১৮:৩৩ | আপডেট: ১১ জুন ২০১৮, ০৮:২১

কলকাতা সংবাদদাতা

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের হায়দারাবাদ পুলিশ।

গত ৬ জুন হায়দারাবাদ থেকে সম্পত নেহেরা নামের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে গুরুগ্রামের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত ভয়ংকার অপরাধী বা গ্যাংস্টার। তিনি আরেক গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনই-এর সহযোগী।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্পত নেহেরা জানিয়েছেন, তাঁরা অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার ছক কষেছিলেন।

এর আগে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় সালমান খান ছাড়া পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সময়েই তাঁকে হত্যার হুমকি দেন লরেন্স বিশনই। সালমান খানকে যেখানেই পাবেন সেখানেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দেন তিনি। এরপর থেকে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় সালমানের।

হায়দারাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, আটক সম্পত নেহেরা লরেন্সের সহযোগী। তাঁর বাড়ি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মুম্বাইয়ে সালমান খানের বিলাসবহুল বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন। স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সম্পত নেহেরা জানান, তিনি সালমানের অনেক বড় গুণমুগ্ধ। তাই প্রিয় তারকার সঙ্গে কেবল একবার দেখা করতে চান। কিন্ত নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা সম্পতকে সালমানের সঙ্গে দেখা করতে দেননি। পরে সম্পত মুম্বাই থেকে চলে যান হায়দারাবাদে।

এদিকে, সম্পত নেহেরার গতিবিধি মুম্বাই পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানানো হয় হায়দারাবাদ পুলিশকে। পরে হায়দারাবাদ পুলিশের সাহায্যেই গুরুগ্রাম পুলিশ সম্পত নেহেরাকে গ্রেপ্তার করে।

সম্পত নেহেরার বিরুদ্ধে অন্তত ২৪টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

এসটিএফ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সম্পত নেহেরা স্বীকার করেছেন যে, সালমান খানকে হত্যার জন্য গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মুম্বাইয়ে তাঁর বাড়ির সামনে পর পর দুই দিন পরিদর্শক করেন তিনি। লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সালমানের যাওয়া-আসার সময় ও তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্যও সংগ্রহ করেন সম্পত। পরিকল্পনা ছিল সালমান খান যখন নিজের বাড়ির বারান্দায় ভক্তদের দেখা দেন, সেই সময়ই তাঁকে হত্যা করা হবে। এজন্য সালমান খান ভক্তদের থেকে কত দূরে থাকেন, এই দূরত্বে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে সেসবের হিসাব ঠিক করেছিলেন সম্পত। কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ধরা পড়তে হয় সম্পতকে।

এসটিএফ সম্পতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে এই খুনের পরিকল্পনায় আর কে কে জড়িত। জানা গেছে, কারাগারে বন্দি লরেন্স বিশনই এই পরিকল্পনা করেন। তারপর সালমানকে খুনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সম্পত নেহেরাকে। সম্পত চন্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করার সময় থেকেই লরেন্সের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ২০১৬ সালে একটি গাড়ি চুরির ঘটনায় জেল হয় সম্পতের। এরপর থেকেই লরেন্স বিশনইয়ের গ্যাংয়ে তিনি পাকাপাকিভাবে যোগ দেন।

কৃষ্ণসার হরিণ বিশনই সম্প্রদায়ের কাছে ঈশ্বরের মতো। এই কৃষ্ণসার হরিণকে বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখেন বিশনই সম্প্রদায়ের মানুষজন। এই বিশনই সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই সালমান খানের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। এই সম্প্রদায়ের মানুষরাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতেই সাজা হয় এই বলিউড তারকার। পরে অবশ্য মুক্তি পান তিনি। সেই কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা নিয়েই লরেন্স বিশনইয়ের রাগ ছিল সালমান খানের ওপর।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement