Beta

দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জিম্বাবুয়ের নতুন নেতার

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:১৪

বিবিসি

জিম্বাবুয়েতে রবার্ট মুগাবের ৩৭ বছরের টানা শাসনের অবসান হয়েছে। এখন নতুন নেতা হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগোয়া। গতকালই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। 

রাজধানী হারারেতে ফিরেই এমারসন মনাঙ্গাগোয়া দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি নতুন গণতন্ত্রের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন। 

আগামী শুক্রবারই এমারসন মনাঙ্গাগোয়া দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে সরকারি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৮ সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকছেন। 

হারারেতে জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন-পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট বা জানু-পিএফ কার্যালয়ে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে এক ভাষণে মনাঙ্গাগোয়া সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। 

এমারসন মনাঙ্গাগোয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের সেবক হওয়ার অঙ্গীকার করছি। আমি সব দেশপ্রেমিক জিম্বাবুইয়ানকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। এখানে কেউই কারো চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নন। আমাদের পরিচয় আমরা জিম্বাবুয়ের নাগরিক।’

‘আমরা আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাই, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা চাই কাজ, কাজ এবং কাজ’, যোগ করেন নতুন নেতা। 

ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগোয়াকে বরখাস্ত করে অর্ধেকের কম বয়সী স্ত্রী গ্রেসকে উত্তরসূরি করা নিয়ে মুগাবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলের। আর সেই সুযোগে ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে সেনাবাহিনী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে।

এর পরই জানু-পিএফের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বহিষ্কার করা হয় মুগাবেকে। পাশাপাশি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকেও বহিষ্কার করা হয়, যিনি দলের মধ্যে ‘জেনারেশন-৪০’ নামে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং দলটির নারী শাখারও প্রধান ছিলেন। সেদিনই বরার্ট মুগাবের স্থানে বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগোয়াকে দলীয় প্রধানের পদ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়েকে স্বাধীন করেছিলেন মুগাবে। তখন থেকেই তিনি দেশটির ক্ষমতায় আছেন। এ সময়ে ‘আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি’ হিসেবে খ্যাত দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। এর জন্য স্বল্পসংখ্যক শ্বেতাঙ্গের হাতে থাকা দেশটির বৃহৎ জমি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার ‘ভূমি-নীতি’কে দায়ী করা হয়।

ধারণা করা হয়, দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ কর্মহীন। 

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement