Beta

আপনার জিজ্ঞাসা

প্রবাসে থাকলে কি কসর নামাজ পড়তে হবে?

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫০

অনলাইন ডেস্ক

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৪৯তম পর্বে প্রবাসে থাকলে কসর নামাজ পড়তে হবে কি না, সে বিষয়ে সিঙ্গাপুর থেকে মেইলে জানতে চেয়েছেন মেহেদি হাসান। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : আমরা যাঁরা প্রবাসে থাকি, তাঁরা কি কসর নামাজ পড়ব? কারণ, আপনাদের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি শুনেছি, সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দূরত্ব বা সময় নেই। হজরত ওমর (রা.) দুই বছর পড়েছেন। আমরা যাঁরা প্রবাসী এক বছর, দুই বছর বা তার অধিক সময় থাকি, তো আমরা কি কসর পড়ব না পুরো নামাজ পড়ব?

উত্তর : হজরত ওমর (রা.) কসর করেছেন বলে যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, সেটি সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো বক্তব্য ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়নি। এটি অন্য সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি যখন আজারবাইজান গিয়েছিলেন, তখন তিনি সফরে ছিলেন এবং কখন তিনি ফিরে আসবেন, সেটা নিশ্চিত ছিল না। ফলে তাঁর সফরটি দীর্ঘায়িত হয়েছে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত। তখন তিনি কসর করেছেন।

এই রকম যদি কেউ সফরে থেকে যান এবং কখন ফিরবেন, এ ধরনের কোনো নিশ্চয়তা যদি না থাকে, তাহলে তিনি কসর করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু যদি কেউ প্রবাসে যান আর তিনি জানেন যে দুই বছর পর্যন্ত সেখানে থাকবে, সেখানে তার জন্য থাকা-খাওয়া-চলাফেরা করা সকল ব্যবস্থা রয়েছে, এমনকি তাঁর আইডি কার্ড, চাকরির সময় ও আইডি কার্ডের সময় নির্ধারিত রয়েছে, এ আবস্থায় তাঁর জন্য উত্তম হচ্ছে তিনি একামতের নিয়ত করবেন। তিনি পরিপূর্ণ সালাত আদায় করবেন, কসর করবেন না। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, চার দিনের অতিরিক্ত হলেই তাঁর জন্য একামতের নিয়ত করাই উত্তম, যদি সেখানে তাঁর জন্য সকল ব্যবস্থা থাকে। আর যদি তিনি সফর অবস্থায় থাকেন, তাঁর জন্য কোনো আয়োজনের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তিনি কসর করবেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কসরের মাসয়ালা হলো রুকসা আর পরিপূর্ণ করার মাসয়ালা হলো আজিমা। আল্লাহর বান্দাগণ যখন রুকসাত গ্রহণ করার পর্যায়ে থাকবেন, তখনই এটি গ্রহণ করবেন। রুকসাতের অবস্থা থেকে যখনই আপনি আজিমতের অবস্থায় যাবেন, তখন আপনার জন্য উত্তম একামতের নিয়ত করা। এটাই হচ্ছে বিশুদ্ধ বক্তব্য।

Advertisement