Beta

‘তোমার বাবা আর আমিও এ প্লাস পেয়েছি’

০৬ মে ২০১৯, ২৩:০৩

নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তাহসিন মোস্তাফিজ রায়না (ডানে) ও তার পরিবারের সদস্যরা। ছবি : রায়নার ফেসবুক থেকে নেওয়া

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছেন তাহসিন মোস্তাফিজ রায়না। ফলাফল দেখেই মা জাকিয়া সুলতানাকে জড়িয়ে ধরেন রায়না। মেয়ের গলা ধরে কেঁদে ফেলেন মা। কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে তিনি বলেন, ‘খুব খুশি হয়েছি মা। তোমার বাবা আর আমিও এ প্লাস পেয়েছি।’ চোখের পানি মুছেই মেয়ে রায়না দৌড় দেয় বন্ধুদের সঙ্গে।

আজ সোমবার এসএসসির ফলাফল ঘোষণার মঞ্চের পাশেই সাউন্ড বক্সে গান বেজে চলে। রায়না এ প্লাস পাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে শুরু করে নাচানাচি। সবাই মিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে। মা তৃপ্তি নিয়ে দেখছেন সেই দৃশ্য। তখন তিনি এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন।

জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘মেয়ে তো কষ্ট করেছেই, আমি আর ওর বাবাও অনেক কষ্ট করেছি। রায়না যত সময় পড়ত, তত সময় হয় আমি, না হয় ওর বাবা পাশে বসে থাকতাম। আসলে শুধু মেয়ে প্লাস পাইনি, আমরাও পেয়েছি!’

জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, মেয়ে ডাক্তার হবে। জানি না ভাগ্যে কি আছে। ওর বাবা হাবিব মুস্তাফিজও চায় মেয়ে ডাক্তার হোক। আমার খুব ভালো লাগছে, মেয়ের নাচ দেখছি, লাফালাফি দেখছি। মেয়ের আনন্দ দেখে আমার চোখে পানি চলে এসেছে।’

মা দাঁড়িয়ে আছেন। মেয়ে রায়না মায়ের কাছে চলে এসে আবার জড়িয়ে ধরে। মা মেয়ের কপালে চুমু এঁকে দেন। জানতে চাইলে রায়না বলেন, ‘আমি ভীষণ খুশি। আমার মায়ের খুশি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। বাবাও ফোন করে বাড়িতে যেতে বলছে। বাবা অফিসে ছুটি নিয়ে চলে আসছে বাড়িতে। আমার বাবা-মায়ের ইচ্ছে আমি ডাক্তার হব। আমারও ইচ্ছা।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৮২৩ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৮২ জন। এ গ্রেড পেয়েছে ৩৪১ জন। তিনজন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক লাইলুন নাহার বলছেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে ওই তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এর মধ্যে একজন বিজ্ঞান বিভাগের আর বাকি দুজন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের। সুতরাং আমরা বলতেই পারি, আমরা শতভাগ পাস করেছি।’

Advertisement