Beta

হাবিপ্রবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:৩২

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর
হাবিপ্রবি উপাচার্য রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আজ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় সিটন। ছবি : এনটিভি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) উপাচার্য রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পড়েন সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় সিটন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আতিকুর রহমান, সদস্য মাহমুদুল হোসাইন, নাজমুল হোসাইন, রকিবুল আলম, জাকারিয়া হোসেন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে সিটন বলেন, গত ১৮ জানুয়ারি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পৈশাচিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী ও বহিরাগত একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই হামলায় নেতৃত্ব দেয়। এর পর থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। 

এ ছাড়া গত ২৭ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর স্টেশন চত্বরে ১৪ দলের এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্চ-বিরল) আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী। সেই জনসভায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেওয়ায় আশিক ও আজাদ নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মীর ডান পা ভেঙে দিয়েছে এই বিশেষ মহলটি।

সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী মাহফুজ, দিপু, ফরহাদ ও রয়েল পরীক্ষা দিতে গেলে এই বিশেষ মহলটি তাঁদের পরীক্ষার হল থেকে টেনে বের করে নিমর্মভাবে মারধর করে আহত করে বলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন প্রক্টর শফিকুল ইসলাম।

সাধারণ সম্পাদক সিটন অভিযোগ করেন, উপাচার্য সরকারের পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছেন। তিনি পরিবহন খাতের সভাপতি পদ ধরে রেখে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ব্যবস্থার খাত থেকে আত্মসাৎ করেছেন। উপাচার্যের ৮০ লাখ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়লেও নিজস্ব তদন্ত কমিটি সাজিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই দুর্নীতির ব্যাপারটি তদন্ত করতে এলে উপাচার্য নিজস্ব ক্ষমতাবলে তা ধামাচাপা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এটা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এদের নতুন কোনো ষড়যন্ত্র।’

Advertisement