Beta

কোথায় থাকবে গণপিটুনিতে নিহত রেনুর সন্তানরা, ‘মামলা হচ্ছে’

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪২ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
তাসলিমা বেগম রেনু ও তাঁর শিশু মেয়ে তুবা। পুরোনো ছবি : এনটিভি

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে হত্যার শিকার তাসলিমা বেগম রেনুর সন্তান তাসমিন তুবা (৪) ও তাসিন আল মাহিরের (১১) দায়িত্ব নিতে আদালতে মামলা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার তাসলিমা বেগম রেনুর বড় বোনের ছেলে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু এনটিভি অনলাইনকে এ কথা জানান।

টিটু বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে না হলেও আগামী সপ্তাহের শুরুতে আমরা জজকোর্টে গিয়ে তুবা ও তাসিনের অভিভাবকত্ব নিয়ে মামলা করব। আমরা চাই, দুজনই আমাদের কাছে থাকুক। অন্তত লেখাপড়ার দয়িত্বটা আমরা নিতে চাই।’

সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘শুধু আমরা নয়, তুবা আর তাসিনও চায় আমাদের কাছে থাকতে। তুবা তো কখনোই তার বাবা তসলিম হোসেনের কাছে ছিল না। তার জন্মের পরপরই রেনু আন্টির ডিভোর্স হয়। আর তাসিন সর্বশেষ তার ফুফুর কাছে গ্রামের বাড়িতে ছিল। আসলে তার বাবার তেমন সক্ষমতা নেই তাদের লেখাপড়া করানোর। এবং তসলিম আমাকে সে ব্যাপারে খোলাখুলি জানিয়েছেন। তারপর আমি তাসিনকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি।’

টিটু আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে তুবা ও তাসিন থাকলে তাদের বাবা তসলিমেরও কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তবুও আমরা চাই, আদালত একটি নির্দেশনা দিক। নতুবা দেখা যাবে, বাচ্চাদের লেখাপড়া চলছে এমন সময় বাবা দাবি করে বসেছেন তার সন্তানদের। আমরা চাই, ওদের ভাইবোনের লেখাপড়া ভালোভাবে শেষ হোক। তারপর তারা চাইলে বাবার কাছে চলে যাক। তখন তার বাবারও সুবিধা হবে। শিক্ষিত দুটি সন্তান পাবে।’

তাসলিমা বেগম রেনুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তুবা ও তাসিন খেলছে। সে সময় তারা দুজনেই জানায়, তারা খালার বাড়িতেই থাকতে চায়। এখানে থেকেই লেখাপড়া করবে। তাসিন আল মাহির বলে, ‘আগে গ্রামের বাড়িতে ফুফুর কাছে ছিলাম। এখন অনেক ভালো আছি। এখানে থেকে লেখাপড়া করলে আমার লেখাপড়াও ভালো হবে।’

কেমন কাটছে তাসিন-তুবার দিনকাল?

মহাখালীর খালার বাসায় থাকে তাসমিন তুবা ও তাসিন আল মাহির। ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তুবা মোবাইল ফোনে গেম খেলছে। দেখছে ফান ভিডিও। টিভিতেও কার্টুন চলছে। সারা দিন খেলাধুলায় কাটে তার দিন। তুবার খেলার সঙ্গী তাসিন। দুজন একসঙ্গেই খেলে। তবে মাঝেমধ্যে তুবা খুব মন খারাপ করে বসে থাকে। খোঁজে মাকে। আর বোনকে নিয়ে কেটে যায় তাসিনের সারা দিন।

খালাতো ভাই সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘তুবা এখনো রেনু আন্টিকে খোঁজে। সে ভাবে তার মা ফিরে আসবে। তুবা একবার বলে মা ছাদে আছে। আরেকবার বলে মা আমেরিকায় আছে। বাড়িতে আসার সময় মা তার (তুবা) জন্য গিফ্ট নিয়ে আসবে।’

কী হবে তাদের লেখাপড়ার?

টিটুর ভাষ্যমতে, ‘আমি তুবাকে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ও লেভেল পর্যন্ত পড়াব। তারপর বিদেশে পাঠাব উচ্চশিক্ষার জন্য। আমি চাই তাকে মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। সমাজের অন্ধত্ব ঘোচানো তার শিক্ষার মূল মোটিভ হবে। তাকে বিদেশে লেখাপড়া করতে এমন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করব, যেখানে মানবিক ও সমাজবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়। আর তাসিনকে দেশে রেখে লেখাপড়া করাব। ভর্তি করব আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে। আমি চাই ওরা দুই ভাইবোন মানুষের মতো মানুষ হোক।’

রেনু হত্যা মামলার কী অবস্থা এখন?

গত ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি স্কুলে চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে যান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। এ সময় তাকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে স্কুলের একটি কক্ষ থেকে টেনে বের করে ‘গণপিটুনিতে’ হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গণপিটুনিতে রেনুকে হত্যার দায়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘রেনু হত্যা মামলায় এপর্যন্ত আমরা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। যাদের সবাইকেই রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এদের ভেতরে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা আরো তিনজনকে ফাইন্ড আউট করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছি আমরা। এ ছাড়া ভিডিওতে দেখেছি অথচ শনাক্ত করতে পারেনি এমন অনেকেই আছেন।’

Advertisement