Beta

এক রশিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও মেয়ের ঝুলন্ত লাশ

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৫

মো. মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মা পান্না আক্তার ও তাঁর শিশুসন্তান লামিয়া আক্তারের মরদেহ। ছবি : এনটিভি

নোয়াখালী সদর উপজেলায় একই রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা পান্না আক্তার ও তাঁর শিশুসন্তান লামিয়া আক্তারের (৩) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পান্না আক্তারের শ্বশুর আইয়ুব আলীকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত পান্না আক্তার কালাতোরাপ ইউনিয়নের আবুল কালামের মেয়ে ও আন্ডারচর ইউনিয়নের দিনমজুর সুমনের স্ত্রী। তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত শিশু লামিয়া আক্তার তাঁর একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে বাড়ির সিলিংয়ে একই রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও শিশুসন্তানকে দেখতে পান বাড়ির লোকজন। পরে পুলিশে খবর দিলে আজ লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পান্নার সঙ্গে প্রায়ই তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের ঝগড়া হতো। দুদিন আগে পান্নার পরনের কাপড় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল ঝগড়ার একপর্যায়ে মা ও সন্তানকে হত্যা করে রশিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বক্সী জানান, চার বছর আগে দিনমজুর সুমনের সঙ্গে বিয়ে হয় পান্নার।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নবীর হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি নবীর হোসেন আরো জানান, নিহত পান্না আক্তারের বাবা বাদী হয়ে পান্নার শ্বশুর আইয়ুব আলী, ননদ রুমানা ও দেবর রাজুকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওসি।

Advertisement