Beta

প্রথমে মাকে গলা কেটে হত্যা, পরে মেয়েকে ধর্ষণ

১৮ জুন ২০১৯, ১৬:৪৪

নওগাঁর মান্দায় সোমবার রাতে মাকে গলা কেটে হত্যার পর অস্ত্রের মুখে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক সামিউল ইসলাম সাগর। ছবি : এনটিভি

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মাকে গলা কেটে হত্যার পর অস্ত্র দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সামিউল ইসলাম সাগর (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার প্রাসাদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম নাসিমা আক্তার সাথী (৪০)।

এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাগরকে আটক করে মান্দা থানা পুলিশ। সাগর উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের বাসিন্দা।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, নিহতের ছোট মেয়ের সঙ্গে আটক সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। গতকাল রাতে সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাকু নিয়ে তাঁদের বাড়ির পেছন দিক দিয়ে ছাদে উঠে অপেক্ষা করতে থাকে সাগর। সে তখন যৌন উত্তেজক পানীয় পান করে এবং একপর্যায়ে ছাদ থেকে নেমে ওই মেয়ের ঘরে যায়। নিহত সাথী ও তাঁর মেয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

‘একপর্যায়ে ঘরের ভেতর সাগর ও মেয়ের কথা বলার শব্দে জেগে ওঠেন সাথী। সাগর সে সময় তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে সাথীর শরীরে একাধিক আঘাত করে। এতে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে সাগর। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিহতের মেয়েকে ধর্ষণ করে,’ বলেন ওসি।

আটক সাগর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। সাগর জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায়, অপরাধ সংঘটিত করে সে হেঁটে বুড়িদহ খেয়াঘাটের বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি নদীতে ফেলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়।

সাথীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য একই হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত সাথীর স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘আমি নাটোরের একটা ফার্মে নাইটগার্ডের চাকরি করি। বাড়িতে স্ত্রী সাথী ও মেয়ে থাকত। গতকাল গভীর রাতে মোবাইল ফোনে আমি সাথীর মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’ এ ঘটনায় বাদী হয়ে এমদাদুল মান্দা থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন।

Advertisement