Beta

সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

০৫ জুন ২০১৯, ২২:৩২

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বুধবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিদের দোয়া। ছবি : ফোকাস বাংলা

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুধবার দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। উৎসবের আমেজে মুসলমানরা নতুন কাপড় পরে তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এবং দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দুটি বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ ময়দান এবং খোলা মাঠেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদের দিন সরকারি ও বেসরকারি অফিস ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ঈদ মোবারক লেখা পতাকায় সাজানো হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

ঈদ উপলক্ষে কারাগার, হাসপাতাল, সরকারি শিশু কেন্দ্র, ছোটমনি নিবাস ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা ছিল।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উপযাপন করতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকার বাইরে ঈদের খবর জানাচ্ছেন এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে সকাল ৮টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু তালেব মো. আলাউদ্দিন আল কাদেরী।

এখানে অন্যদের মধ্যে নামাজে অংশ নেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বিএনপি নেতা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

এ ছাড়া তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ায়, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কাট্টলীতে, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী আনোয়ারায় নিজ নিজ গ্রামে ঈদের জামাত নামাজ আদায় করেন।

শ. ম সাজু, রাজশাহী : বৃষ্টির কারণে রাজশাহীতে ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি ঈদের নামাজ। নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে হযরত শাহ মখদুম দরগা মসজিদে সকাল ৮টায়। এখানে সিটি মেয়র এএইএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এছাড়া মুহাম্মদপুর টিকাপাড়া মসজিদসহ মহানগরীর অন্যান্য মসজিদেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপনের জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশ নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে র‌্যাবের টহল। এছাড়া পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে মহানগর পুলিশ।

ইউএনবি, সিলেট : বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নগরীর শাহী ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে লাখো মুসল্লির ঢল নেমেছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার জামাতে নামাজ আদায় করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা।

নগরীর বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কামাল উদ্দিন নামাজে ইমামতি করেন। এর আগে হযরত মাওলানা শায়খে বরুণী সৈয়দুর রহমান হাবিবী বয়ান করেন।

টিলা ও সবুজে আচ্ছাদিত পরিবেশে শাহী ঈদগাহের জামাত পাশের কয়েকটি রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন এ ঈদগাহে এবারের জামাতে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হন।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঈদের নামাজ আদায় করা হয়নি। তাঁরা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে ৯টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এ ছাড়া, সকাল সাড়ে ৮টায় টিলাগড় শাহ মাদানী ঈদগাহ ময়দান, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের জামে মসজিদ ও সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এবং সকাল ৯টায় হযরত শাহপরান (রহ.) দরগাহ মসজিদ, বরইকান্দি শাহী ঈদগাহ ময়দান ও সিলেট সদর উপজেলার সাহেববাজার শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ : প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে প্রায় দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে ধারণা আয়োজকদের।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঈদুল ফিতরের ১৯২তম জামাত শুরু হয়। জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

২০১৬ সালে জঙ্গি হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হামলার  বিষয়টি মাথায় রেখে সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের লক্ষে শোলাকিয়ায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা ছিল সিসি ক্যামরার নজরদারিতে। পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোশাকে নজরদারি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ কয়েক দফায় তল্লাশি করা হয়। শহরের অলিগলিতে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি। মাঠের ৩২টি প্রবেশ পথে চেকপয়েন্ট বসিয়ে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

ঈদের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চলাচল করেছে দুটি স্পেশাল ট্রেন। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসে।

গতকাল রাত থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে জামাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত। কিন্তু বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভোর থেকেই হাজার হাজার মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ঈদগাহমুখী সব সড়ক। সকাল ৯টার অগেই কানায় কানায় ভরে যায় শোলাকিয়া মাঠ। মাঠে স্থান না পেয়ে বহু মুসল্লিকে মাঠের আশপাশের রাস্তাগুলোতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

ইউএনবি, দিনাজপুর : দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ৬ লাখ মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত ঈদের জামাতে ছয় লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম অংশ নেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। তিনি বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং দেশের অন্যান্য অংশের মতো বৃষ্টি না হওয়ায় জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম প্রমুখ নামাজে অংশ নেন।

এ সময় ঈদগাহের পরিকল্পনাকারী ও উদ্যোক্তা স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম নামাজে যোগ দেওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ঈদগাহ নির্মাণে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সকাল ৮টায় শহরের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ায় শত শত মুসল্লিকে পাশের সড়কে নামাজ আদায় করতে হয়। 

নামাজ শুরুর আগে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। 

ঈদের জামাতের আগে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান। ঈদের জামাত শেষে দেশ ও জাতির সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি  এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া কামনা করা হয়। ঈদের এ প্রধান জামাতকে নির্বিঘ্ন করতে শহরের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠের আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা শহরের ওয়াজের আলী ঈদগাহ মাঠে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় এ জামাত। এ ছাড়াও স্থানীয় সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়। জেলার অন্যান্য স্থানেও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে ঈদুল ফিতরের নামাজকে ঘিরে ঈদগাহ মাঠে টহল ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। জেলার ছয় উপজেলায় ১ হাজার ৫১৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মো. জালাল উদ্দিন, কুমিল্লা : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন কারি মোহাম্মদ ইবরাহিম।

এতে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজি আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ মো. ওমর ফারুকসহ নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া নগরীর মুন্সেফবাড়ি, পুলিশ লাইন জামে মসজিদ, সুজা বাদশা জামে মসজিদ, কাপ্তান বাজার জামে মসজিদ, জানু মিয়া জামে মসজিদ, দারোগাবাড়ি জামে মসজিদসহ জেলার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি জেলায়ও উৎসব মুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন খাগড়াছড়ি শাহী মসজিদের পেশ ঈমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর নুর হক্কানী।

প্রধান জামাতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন, পৌর মেয়র রফিকুল আলম ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শানে আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে বিশ্ব উম্মাহর শান্তি ও পাহাড়ি বাঙালি যেন মিলেমিশে বসবাস করতে পারে সে প্রার্থনা করেন। জামাত শেষে পারস্পরিক উষ্ণ কোলাকুলির মধ্য দিয়ে উৎসব আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে।

এরপরই পুরাতন পুলিশ লাইন্স মসজিদ, শালবন মসজিদ, খেজুরবাগান জামে মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, শান্তিনগর মসজিদ, কুমিল্লাটিলা জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া জেলার দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়িতে পৃথক পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল : নড়াইল কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ঈদ জামাতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আশরাফ আলী। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস প্রমুখ।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল ৮টায়।

নামাজে ইমামতি করেন জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট মাওলানা আব্দুল মতিন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট প্রমুখ ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন।

তবে বরাবরের মতো এবারও জয়পুরহাট শহরে প্রথম ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় জয়পুরহাট সুগার মিলস মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ।

ভজন দাস, নেত্রকোনা : বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জামাতে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাতুয়ালী এইচ আর খান পাঠান সাখি প্রমুখ।

এ ছাড়া পুলিশ লাইন জামে মসজিদ, ছোটবাজার জামে মসজিদসহ জেলায় ১ হাজার ৭৩০টি মসজিদ ও মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী : বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা আর কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নরসিংদীর বিভিন্ন মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদগাহে মিলিত হয়। সকাল ১০টায় গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

জামাতে ইমামতি করেন গাবতলি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ সাইদ কামাল উদ্দিন জাফরি। এ সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই নামাজে অংশ নেয়।

নামাজ শেষে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একে অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। এ ছাড়া শহরের জেলা কালেক্টরিয়েট মসজিদে নামাজ আদায় করেন পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

লুৎফর রহমান মিঠু, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হয়েছে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে। সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ পড়ান কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. খলিলুর রহমান। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

এ ছাড়াও পুলিশ লাইন মাঠ, আনসার ভিডিপি মাঠ, বিজিবি ঠাকুরগাঁও সেক্টর মাঠ, সাধারণ পাঠাগার মাঠে পৃথকভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সকাল সাড়ে ৮টায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে জেলা জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও জেলা শহরের টেংকের পাড় জামে মসজিদ, মদিনা জামে মসজিদ, সদর হাসপাতাল মসজিদসহ ৭৭২টি স্থানে ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের প্রধান জামাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইউনুছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মোহাদ্দেস নোমান আল হাবিবি।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর : জেলা শহরের চাঁদমারী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে শরিক হয়ে নামাজ আদায় করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি। নামাজের আগে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হাসান রুবেল প্রমুখ।  

এ সময় রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নামাজ আদায় করেন।

এ দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন ময়দান, অম্বিকা ময়দান, আলীপুর কবরস্থান জামে মসজিদসহ জেলার সব বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাত থেকে দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

Advertisement