Beta

‘বালিশকাণ্ডে’র তদন্ত প্রতিবেদন দেখে ব্যবস্থা নেবে দুদক

২১ মে ২০১৯, ২১:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ মঙ্গলবার দুদকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেনাকাটায় দুনীর্তির যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ব্যাপারে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

আজ মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।

এ সময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘উই আর ওয়েটিং ফর দ্য রিপোর্ট ফ্রম দ্য মিনিস্ট্রি। যে দুটো মিনিস্ট্রি কাজ করছে, আমরা তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর সেটি দেখব। রিপোর্ট দেখার পর যদি দেখি, ইনগেরিয়েন্স আছে সেখানে, সে রিপোর্টটা দেখে আমরা তখন কার্যকরী ব্যবস্থা নেব।’

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য সেখানে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

২০তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা করে; ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। পাঁচ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেকট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ করে। একইভাবে প্রতিটি আয়রন কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে চার হাজার ১৫৪ টাকা, আর তা ভবনে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা। এ ছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। প্রতিটি চুলা কিনতে খরচ করেছে সাত হাজার ৭৪৭ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের স্থানীয় ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

Advertisement