Beta

সাংসদ জাহিদুরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৮ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৭

নিজস্ব সংবাদদাতা
বিএনপির জাহিদুর রহমানকে গত বৃহস্পতিবার শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি : ফোকাস বাংলা

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এই কথা জানান।

দল থেকে নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার বিষয়সহ রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসে স্থায়ী কমিটি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের আগেই সিদ্ধান্ত ছিল যারা ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আমাদের দলের আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে বিএনপির প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জাহিদুর ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছেন। কিন্তু কোনোবারই তিনি পাস করতে পারেননি। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাহিদুর রহমান ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। রংপুর বিভাগে তিনিই বিএনপির একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী নৌকা মার্কায় ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ লাঙ্গল প্রতীকে পান ২৭ হাজার ১৮২ ভোট।

শপথ নেওয়ার পর জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বহিষ্কার করা হতে পারে এটা জেনেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি শপথ নিয়েছি। বহিষ্কার করলেও আমি দলের সাথেই থাকব।’ জানান, তিনি সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবি উত্থাপন করবেন।

জাহিদ জানান, তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণ, যারা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের আশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে দলের সিদ্ধান্তকে ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু শপথ নিতে আমার এলাকার জনগণ আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫ দিন ধরে তিনি রাজধানীতে অবস্থান করছেন এবং এলাকার জনগণ তাঁকে শপথ নিয়ে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’

জাহিদ জানান, বিএনপির টিকিটে এ আসন থেকে এর আগে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে একবারও জিততে পারেননি। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বিএনপি এ আসনে বিজয়ী হয়েছে।’

শপথ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বিএনপি নেতাদের সাথে আলোচনা করেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং কয়েকদিন আগে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু শপথ নিতে তাদের সম্মতি পাননি। জাহিদ বলেন, ‘দল শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অটল।’

বিএনপি বহিষ্কার করলে কী করবেন এমন প্রশ্নে জাহিদ বলেন, ‘দল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমি দলের জন্য নিবেদিত কর্মী। আমি ছাত্রাবস্থা থেকেই গত ৩৮ বছর ধরে দলের সাথে জড়িত। সুতরাং আমি দলের সাথেই থাকব। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তাতে কিছু যায় আসে না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ জানান, সংসদে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়ে তিনি যথাযথ ভূমিকা রাখতে চান। তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী (খালেদা জিয়া) বয়স্ক, বর্তমান বয়স ৭৩। গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁকে মুক্তি দিতে আমি সংসদকে অনুরোধ করব। এমপি হিসেবে এটা আমার প্রথম অঙ্গীকার।’

এ সময় দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজার হাজার ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এ নেতা।

জাহিদের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ সদস্যের মধ্যে ২৯৫ জন শপথ নিলেন। বর্তমান সংসদের সদস্য থাকতে চাইলে আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির বাকি পাঁচ সংসদ সদস্যকে অবশ্যই শপথ নিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার বলেছিলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়ে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন এবং তাদের স্থায়ী কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে।

Advertisement