Beta

ডিএমপির ট্রাফিক মাস

হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল নয়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:১৬ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪০

নিজস্ব সংবাদদাতা
বিশেষ ট্রাফিক মাস ঘোষণা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ছবি : এনটিভি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকলে তিনি রাজধানীর কোনো পাম্প থেকে তেল কিনতে পারবেন না।

এ ছাড়া মহানগরীর ভেতরে লেগুনা, অবৈধ রিকশা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহনও চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন কমিশনার। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন অমান্য করলে যত শক্তিধর ব্যক্তিই হোন না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ ট্রাফিক মাস ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্ঘটনা রোধ ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এই বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে ডিএমপি।

গত মাসে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলার সময় ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রথমে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তা আরো তিন দিন বাড়ানো হয়। এ দুটি কর্মসূচির পর এবার দ্বিতীয় দফায় ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হচ্ছে পুলিশের বিশেষ এই ট্রাফিক অভিযান। এতে পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউটের সদস্যরাও এই অভিযানে কাজ করবে।

অবৈধ রিকশা চলাচলকে অরাজকতা উল্লেখ করে ঢাকা মহানগরীর পুলিশের প্রধান বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলায় বড় সমস্যা হাজার হাজার অবৈধ রিকশা। ঢাকা সিটি করপোরেশনে রেজিস্ট্রেশন নেই, এমন সব রিকশা আটক করা হবে।

বিশেষ এই মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে ‘মডেল’ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই সড়কে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল, নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো থেকে শুরু করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে তা পুরো ঢাকা সিটিতে চালু করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধে নগরীর ১২১টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এর বাইরে রাস্তায় কোথাও বাস থামানো যাবে না। এমনকি যাত্রী ওঠানোর পরে নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া বাসের দরজা খোলা যাবে না। যাত্রী ওঠানোর পরই বাসের দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।

ট্রাফিক আইন না মানলে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ট্রাফিক সপ্তাহে পাঁচ কোটি টাকার ওপরে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ৮৮ হাজারের বেশি যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের উদ্দেশ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, দুজনকেই মাথায় হেলমেট পরিধান করতে হবে। তিনজন চলা যাবে না। হেলমেট না থাকলে জ্বালানি তেল বিক্রি না করতে পেট্রল পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকার পুলিশপ্রধান আশা করেন, এক মাস পর মহানগরীর মানুষ ট্রাফিক ব্যাপারে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পারবেন। এ ব্যাপারে তিনি নগরবাসীকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

Advertisement