Beta

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা খালেদা জিয়া!

১৪ জুন ২০১৮, ২১:০৪

লুৎফর রহমান মিঠু, ঠাকুরগাঁও
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিমিয় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : এনটিভি

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা বলে উল্লেখ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকার নেত্রীকে ছাড়তে ভয় পাচ্ছে, তাই নানান রকম টালবাহানা করছে। এই হ্যামেলিনের বংশীবাদক যদি কারাগার থেকে বের হয়ে জনগণের মধ্যে নেমে আসেন, আবার বাঁশি বাজিয়ে ডাক দেন, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে তাঁকে রোধ করে রাখতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিমিয় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অবস্থান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব প্রশ্ন তোলেন, ‘দেশনেত্রীকে চিকিৎসা দিতে, দেশনেত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনাদের এত ভয় কেন?’

এই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, যিনি দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, পরবর্তীকালে রাজনীতিতে এসে দীর্ঘ নয় বছর চারণকবির মতো গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই তিনি আজকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তিন তিনবার জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া খালেদা জিয়াকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়নি, তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব প্রশ্ন তোলেন, এক এগারোর সময় শেখ হাসিনাকে যখন বন্দি করা হয় তখন তাঁকে আলাদা করে, বিশেষ ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে, ডেপুটি স্পিকারের বাসায় কেন রাখা হয়েছিল? কেন কানের চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাস্পাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, চিকিৎসার জন্য প্যারোলে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল?

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে, তারেক রহমানকে বিদেশে রেখে, বিএনপি এবং সবগুলো বিরোধী দলীয় নেতাদের জেলের মধ্যে আটকে রেখে আওয়ামী লীগ  নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

দেশের মানুষ ২০১৪ সালের মতো আরেকটা নির্বাচন করতে দেবে না বলে মন্তব্য করে ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকের এই সংকট খালেদা জিয়ার একার সংকট নয়, বিএনপির একার সংকট নয়, ২০ দলের একার সংকট নয়। এই সংকটকে সমগ্র জাতির সংকট অভিহিত করে দল-মত নির্বিশেষে জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে, দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে স্বাধীনতার প্রতীক, সার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সবার  দায়িত্ব বলে অভিহিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রয়োজনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যারা ক্ষমতায় বসে আছে তাদের অপসারণ করতে হবে।   

খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পুর্নগঠন ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার কথাও বলেন মির্জা ফখরুল।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা অবশ্যই চাই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হোক। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণায় আমাদের সমর্থন আছে। কিন্তু মাদকের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানানো আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য বদিকে বাদ দিয়ে একরামুলকে কেন মেরে ফেলা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাদক নির্মূলের নামে সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা কেউই এই দেশে নিরাপদ নই। 

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিমিয় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রমুখ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement