Beta

বান্দরবানে পাহাড়ধস, রাঙ্গামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

১১ জুন ২০১৮, ২১:২৮

টানা বর্ষণে বান্দরবানের বালাঘাটায় বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকায় চলাফেরা করছে লোকজন। ছবি : এনটিভি

টানা ভারি বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবিরম বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের ঝুকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গতকাল রোববার ভোররাত থেকে বান্দরবানে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে বান্দরবান জেলা শহরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলানগর, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকা এবং লামা উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জেলা শহরের বালাঘাটায় পুলপাড়া বেইলি ব্রিজ খালের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদীর পানি। সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী অসংখ্য ঘরবাড়ি স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

অবিরাম বর্ষণে বান্দরবানের ইসলামপুরে প্লাবিত ঘরবাড়ি। ছবি : এনটিভি

মৃত্তিকা পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণে সবচেয়ে বেশি। টানা ভারি বর্ষণের ফলে বান্দরবানে পাহাড়ধস এবং বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

এদিকে প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের বনরুপা পাড়া, ইসলামপুরসহ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের ঝুকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

বনরুপা পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির বলেন, পাহাড়ধসে বনরুপায় গত বছর যেখানে শিশু মারা গিয়েছিল, সেখানে সোমবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। আশপাশের আরো কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, পাহাড়ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহাণি ঠেকাতে জেলার সাত উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

টানা বর্ষণে বান্দরবানের বালাঘাটায় বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছবি : স্টার মেইল

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement