Beta

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২২:৩৫

ভোলা জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : এনটিভি

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আর কেমন হবে এই সহায়ক সরকার তার একটি রূপরেখাও সরকারের কাছে দেবে দলটি। দলের নেতারা আশা করছেন, তাতে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সরকার আলোচনা না চাইলে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

আজ শনিবার বিকেলে ভোলা শহরের মুসলিম কমপ্লেক্সে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে এই সম্মেলনে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন বিএনপি মহাসচিব। পরে সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চান, নির্বাচন নিয়ে তাঁর দলের সর্বশেষ অবস্থান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আবারও বলছি, আমরা নির্বাচন আমরা চাই। তবে সে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে সব দলের অংশগ্রহণে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর সেজন্য যেটা প্রয়োজন, নির্বাচন কমিশনকে যেন সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে তার জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সহায়ক সরকার। অর্থাৎ যে সরকারটি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করতে সহায়তা করবে এ কথাটি খুব স্পষ্টভাবে বলেছি। আমরা খুব অল্প দিনের মধ্যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব।’

এর আগে সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো নেতা নেই যাঁর নামে মিথ্যা মামলা নেই।

ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. গোলাম নবী আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আমিনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম ও হাফিজ ইব্রাহিম।

এর আগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। জেলার সাতটি উপজেলা থেকে অন্তত এক হাজার ২০০ প্রতিনিধিসহ হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

এদিকে, আজ খুলনায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সামনে এখনো সমঝোতার পথ খোলা রয়েছে। আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হবে সে সম্পর্কে বিএনপি একটি প্রস্তাব দেবে।

খুলনার উমেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় আমীর খসরু বলেন, ‘এখন আসছে আমাদের নির্বাচনকালীন সরকার। আবার হয়তো আমাদেরকে অনেকে বলবে যে নির্বাচনকালীন সরকার তোমরা একদিনেই ঘোষণা করে দিতে পারো। কিন্তু বাংলাদেশের বৃহত্তম জনপ্রিয় দল হিসেবে আমাদের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হচ্ছে জাতির সামনে নির্বাচনকালীন সরকার কী রূপ পাবে সেটা আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা আসবে, সেই প্রস্তাবনা হবে মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র।’

সহায়ক সরকারের রূপরেখা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাঁতী দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এই বিএনপি নেতা।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে বসি নাই। দলের মধ্যে নানা রঙের লোক আছে, নানা বর্ণের লোক আছে, নানা মতের লোক আছে। কে, কী ভাবছে, সেটা আমরা জানি না। পত্রিকার ভাষা যেটা আসছে, সেটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমরা দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে যদি নির্বাচনেই যাব, তাহলে ১৪ সালেই নির্বাচনে যেতে পারতাম। তাহলে পাঁচ বছর পরে যাব কেন?

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলা বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল এবং তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে বলে জানান বিএনপি নেতারা।

Advertisement