Beta

ইয়াজিদি নারীদের জনসম্মুখেই গণধর্ষণ করে আইএস জঙ্গিরা!

০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:১৪ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:১৬

অনলাইন ডেস্ক
এভাবেই ইয়াজিদি নারীদের ওপর নির্যাতন চালায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধারা। ছবি : দ্য মুসলিম ইস্যু

ইয়াজিদি নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধারা। তাঁদের গণধর্ষণেরও শিকার হওয়ার খবর এর আগেও পাওয়া গেছে। কিন্তু এই প্রথমবার জানা গেল, ওই সম্প্রদায়ের নারীদের জনসম্মুখেই গণধর্ষণ করে যোদ্ধারা।

আইএস যোদ্ধাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ইয়াজিদি নারীরা তাঁদের ওপর লোমহর্ষক যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সিনজার শহর থেকে শত শত নারী ও শিশু অপহৃত হয়েছে এবং আট মাস ধরে আইএস যোদ্ধারা তাদের জিম্মি করে রাখে। এর মধ্যে কয়েকজনকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে অথবা পুরস্কার হিসেবে দান করা হয়েছে। ধর্মান্তর করার জন্য তাঁদের মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে।

এই সপ্তাহে ইরাকের কিরকুকের কাছে হিমেরায় দুই শতাধিক নারী ও শিশুকে মুক্তি দিয়েছে আইএস যোদ্ধারা।

এদের একজন জায়েদ শাম্মু খালাফ বলেন, শিশুদের তাদের মায়েদের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। তাদের মসুল ও তাল আফারে বাড়িগুলোতে রাখা হয়। নির্যাতনের শিকার ইয়াজিদিদের সমর্থন দিচ্ছে ইয়াদা সংগঠন। এই সংগঠনের সঙ্গেই তিনি কাজ করছেন।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসকে জায়েদ বলেন, ‘যদি তুমি আসো এবং এই বালিকাদের সঙ্গে বসো, তাহলে তাদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কথা জানতে পারবে। তাদের অনেকে আইএস যোদ্ধাদের কাছে বিক্রি হয়েছিল, তাদের জনসম্মুখে একই সময়ে দুই থেকে তিন ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। মারধর, নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা।’  

মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে এক নারী বর্ণনা করেন কীভাবে জিম্মিদের কাছ থেকে জোর করে রক্ত নেওয়া হতো। ২০১৪ সালের নভেম্বরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ৮৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ইয়াজিদি যৌনদাসীদের ওপর আইএস যোদ্ধাদের নৃশংস নির্যাতনের চিত্র ফুটে ওঠে। এই প্রতিবেদনেও বলা হয়, শিশুদের আইএস যোদ্ধাদের কাছে বিক্রি করা হয় অথবা ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়।

আইএসের প্রচারপত্র ‘দাবিকে’ একটি নিবন্ধে মানুষ কেনাবেচার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলা হয়েছে, তারা ইসলামের নিয়ম অনুযায়ীই এ কাজ করছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আইএসের এই কর্মকাণ্ডে তাদের নিজেদের মধ্যেই বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরাকের অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের গবেষক সাজাদ জিয়াদ ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, দাবিকে ওই নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আইএসের অনেক সমর্থক ইয়াজিদি নারীদের অপহরণ ও পাচার করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

Advertisement
Advertisement
0.99848508834839