Beta

ঢাকার মঞ্চে ‘সাঁঝবেলার বিলাপ’

১৫ মে ২০১৭, ১৬:৩০

ফিচার ডেস্ক
‘সাঁঝবেলার বিলাপ’ নাটকের একটি দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’তে অনুষ্ঠিত ৯ম এশিয়ান প্যাসেফিক এপিবি নাট্যোৎসবে জ্যঁ রাসিন এর ফরাসি ধ্রুপদী নাটক ‘ফেইড্রা’র অসিত কুমার কৃত বাংলা অনুবাদ অবলম্বনে ‘সাঁঝবেলার বিলাপ’ গত বছরের অক্টোবরে প্রদর্শিত হয়েছিল । এশিয়ার ২০টিরও বেশি দেশের নাটকের মাঝে প্রশংসিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এই নাটকটি।

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় প্রথমবারের মতো ‘সাঁঝবেলার বিলাপ’ মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। নাট মল মিলনায়তনে প্রতি সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী হবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্দেশক অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীনের নির্দেশনায় নাটকটিতে অভিনয় করছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

নাটকটি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ থেকে যখন একটি প্রযোজনা হয় তখন সেটি আর শুধু একটি প্রযোজনা রূপেই থাকে না। ‘সাঁঝবেলার বিলাপ’ প্রযোজনাটি থিয়েটারের শিক্ষণপ্রণালির ফলাফলরূপে নির্মিত। আমার মনে হয়, পেডাগজি বা শিক্ষণপ্রণাললি কেবল কিছু নিয়মবদ্ধ নীতিমালা বা পদ্ধতি মাত্র নয়। শিক্ষা পদ্ধতি বলতে সাধারণত যা বোঝায়, শিল্পের শিক্ষণপ্রণালি তার চেয়েও বেশি কিছু। আর জ্যঁ রাসিনের ‘ফেইড্রা’ নাটকটিতে ফরাসি ধ্রুপদীবাদের মৌল নীতিগুলোর প্রতিফলন খুবই স্পষ্ট কিন্তু রাসিনের এই মাস্টারপিসের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমরা এক নতুন প্রস্থান বিন্দুর সূচনা করতে চেয়েছি। এই প্রস্থান-বিন্দুতে লক্ষ করা যাবে পশ্চিমা ধ্রপদী কানুনের সঙ্গে আমাদের অঞ্চলের এথনিক বা জাতিতাত্ত্বিক ও দেশজ নাট্য নন্দনতত্ত্বের একটি সংশ্লেষ ঘটেছে। আমরা এই প্রযোজনার মর্মস্থলে বা পরতে পরতে অভিনয়, দৃশ্যগত উপাদান যেমন মঞ্চ আলো পোশাক রূপসজ্জা, দেহবিন্যাস এমনকি বিষয়বস্তু বা পাণ্ডুলিপিগত দিক থেকেও সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে পুনঃসৃজনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। নাট্যসাহিত্যের অনুকরণের ধারণাকে না বলতে চেয়েছি। অনুকরণের পরিবর্তে এই প্রযোজনায় আমরা গুরুত্ব দিয়েছি থিয়েটার শিল্পের সৃজনশীল মূলনীতিগুলোকে কীভাবে নতুনভাবে প্রয়োগ করা যায়।”

এক ঘণ্টা ব্যাপ্তিকালের নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইলিয়াস বাসেত, আফরিন তোড়া, ইসতিয়াক খান পাঠান, ধীমান চন্দ্রবর্মণ, রানা নাসির, সাওগাতুল ইসলাম হিমেল এবং সাফওয়ান মাহমুদ।

নাটকটির ড্রামাতুর্গ ও নাট্যকথন ও গীতরচনায় শাহমান মৈশান, মঞ্চ, আলো ও দ্রব্য পরিকল্পনায় আশিক রহমান লিয়ন, পোশাক পরিকল্পনায় ওয়াহীদা মল্লিক, আশিক রহমান লিয়ন, কাজী তামান্না হক সিগমা, রূপসজ্জা পরিকল্পনায় রহমত আলী, সংগীত পরিকল্পনা ও প্রয়োগে সাইদুর রহমান লিপন, কাজী তামান্না হক সিগমা এবং দেহবিন্যাস করেছেন অমিত চোধুরী।

Advertisement
0.82299208641052