Beta

পলাশে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর

১৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ০২:১৭

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী
নরসিংদীর পলাশের জয়কালী মন্দিরে ভাংচুর করা কালি প্রতিমা। ছবি: এনটিভি

নরসিংদীর পলাশে একটি কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বত্তরা। একই সঙ্গে ওই মন্দিরের জিনিসপত্র ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার ভোরে উপজেলার ডাঙ্গা জয়কালী মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় লোকজন। আর এলাকা ঘুরে এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫ হাজার মানুষের মধ্যে আতংক দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার জমিদার উদ্ভব চন্দ্র সাহা প্রায় দেড়শ বছর আগে এই জয়কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই মন্দিরে গ্রামের প্রায় ৫ হাজার হিন্দু ধর্মালম্বীরা মন্দিরে বার্ষিক উৎসব ছাড়াও দৈনিক পূজা অর্চণা করে। যার ধারাবাহিকতায়  গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্দিরের বার্ষিক কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

বার্ষিক কালীপূজার পর গত শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন মন্দিরের বাইরে রাখা কালী প্রতিমা ভাংচুর করা অবস্থায় দেখতে পায়। পরদিন সকালে অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলা হলেও ওই কালী প্রতিমাটি আবার ভাংচুর করে দুর্বত্তরা। সর্বশেষ সোমবার সকালে মন্দিরের মূল কালীপ্রতিমা ভাংচুর করা হয়। এসময় মন্দিরের ভিতরে থাকা পূজা অর্চণার জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র লুটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে ডাঙ্গা জয়কালী মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাচীণ মন্দিরটি ঘিরে মানুষের ভীড়। চোখে-মুখে উৎকন্ঠা নিয়ে তাঁরা মন্দিরের ভাংচুর হওয়া প্রতিমা দেখছে। মন্দিরের ভিতর বেদিতে লুটাচ্ছে ভাংচুর হওয়া প্রতিমা। আর ভিতরে পূজায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী লন্ডভন্ড।

ভাংচুরের ব্যাপারে মন্দিরের তত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার সাহাদাস বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভোরে পাঞ্জাবি আর পাগড়ী পরিহিত তিনজনকে মন্দির থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছে স্থানীয়রা। প্রথমে ঘটনাটি কেউ আমরা গুরুত্ব না দিলেও সর্বশেষ আজ সোমবার ভোরে প্রধান মন্দিরের কালী প্রতিমা ভাংচুর করায় তা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে আমরা বিষয়টি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেছি।

বিষয়টি নিয়ে মন্দিরের সামনে কথা হয় ডাঙ্গা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মফিজ উদ্দিন আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, ‘মৌলবাদীরা ধর্মীয় উসকানীর জন্য পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এদিকে খবর পেয়ে আজ দুপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।’

Advertisement
Advertisement