Beta

‘ভারত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে’

১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:৫২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:০৮

গতকাল বুধবার ১৯ রোহিঙ্গা সদস্যকে সাতক্ষীরার পদ্মশাঁকরা সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে বিজিবি। ছবি : এনটিভি

ভারতের আশ্রয়ে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, তাঁরা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য পেয়েছেন। বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে বিএসএফ তাদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করছে।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার ১৯ রোহিঙ্গা সদস্যকে সাতক্ষীরার পদ্মশাঁকরা সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে বিজিবি। এর আগে ৩ অক্টোবর সাত রোহিঙ্গা সদস্যকে কলারোয়ার হিজলদি সীমান্তের একটি বাজার থেকে আটক করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম সাতক্ষীরার কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল পুলিশ। তিন দফায় মোট ৩৯ জনকে আটক করা হয়।

বিজিবি পদ্মশাঁকরা বিওপির সুবেদার মোশাররফ হোসেন আজ বৃহস্পতিবার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এসব রোহিঙ্গা সদস্য জানিয়েছেন, তাঁরা কয়েক বছর যাবৎ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছিলেন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সুবিধা দিচ্ছে জানতে পেরে ভারতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিএসএফ এই সুযোগে তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশইন করে দিচ্ছে।’

৩ অক্টোবর সাত রোহিঙ্গাকে কলারোয়ার হিজলদি সীমান্তের একটি বাজার থেকে আটক করা হয়। ছবি : এনটিভি

‘সর্বশেষ আটক ১৯ রোহিঙ্গা বিজিবিকে জানিয়েছেন, ২০১২ ও ২০১৪ সালে তাঁরা ভারতে যান। প্রথমে কিছুদিন তাঁরা দিল্লিতে ছিলেন। পরে তাঁরা উত্তরপ্রদেশের আলীপুরে চলে যান। সেখানেই মূলত তাঁরা অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। তখন তাঁদের সেখান থেকে নিয়ে এসে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন  সুবেদার মোশাররফ হোসেন।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আরো বহু সংখ্যক রোহিঙ্গা সদস্য সাতক্ষীরা সীমান্ত অতিক্রম করার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদেরকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে পুশইন করতে সচেষ্ট রয়েছে বিএসএফ।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা জাতিসংঘের নথিভুক্ত শরণার্থী। সেখানে তাঁরা নানা প্রতিকূলতা ও চরম দরিদ্রতার মধ্যেই বসবাস করছেন।

সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে ফের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণ শুরু করলে পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বিপদসঙ্কুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। প্রতিদিনই রোহিঙ্গা আসছে বাংলাদেশে। এ সংখ্যা আট লাখে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আরো প্রায় ৮৬ হাজার রোহিঙ্গা। আর এর আগ থেকেই বাংলাদেশে বসবাস করছিল চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক, যাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘দেশহীন গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

কিন্তু ভারত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সীমান্তে তাঁরা রোহিঙ্গাদের বাধা দিচ্ছে। উপরন্তু ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী আদালতের দারস্থ হন। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগের অভিযোগ এনে চিঠি দিয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম সাতক্ষীরার কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৩ জন রোহিঙ্গা সদস্যকে আটক করেছিল পুলিশ। ছবি : এনটিভি

এই অবস্থার মধ্যেই ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পাঠিয়ে অভিযোগ উঠল। বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের মাধ্যমে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিজিবি বলছে, তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তবে মানবিক বিষয় বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলার ঝুঁকি নিতে চায় না সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

অপরদিকে পুলিশ বলছে, বিজিবি তাদের আটক করেছে। সুতরাং বিজিবি মামলা দিলে তারা তা নথিভুক্ত করবে।

গতকাল বুধবার সাতক্ষীরার পদ্মশাঁকরায় উদ্ধার হওয়া ১৯ রোহিঙ্গা সদস্যকে বিজিবি সাতক্ষীরা থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ প্রথমে তাঁদের থানাহাজতে রাখে। কিন্তু বিজিবি কোনো মামলা না দেওয়ায় পরে তাঁদের হাজতের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় তাঁদের  ফেরত নিয়ে যাওয়া হয় বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে। তাঁদের কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আলতাফ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা সদস্যদের সম্মানের সঙ্গে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও  চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

একই কথা জানান বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরমান হোসেন।

Advertisement
0.79326415061951