Beta

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ উপদ্রব : সিইসি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ‘উপদ্রব’ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, এজন্য নির্বাচন কমিশন ছিল না।

আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়ে এসব বলেন সিইসি।

সিইসি বলেন, দেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র তৈরির সময় সেই কাজে কমিশন সম্পৃক্ত থাকবে।

নুরুল হুদা জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন বাংলাদেশের ভোটার তালিকাভুক্ত না হন সে জন্য চিহ্ণিত মোট ৩০টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নতুন করে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘এই উপদ্রবের জন্য তো আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এখন আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে তারা বায়োমেট্রিক মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রেশন করবে সে ব্যাপারে আমরা আমাদের সম্পৃক্ততা রাখতে চাই এবং আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব যাতে রোহিঙ্গা ভোটার তালিকাভুক্ত না হয়। সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি, সচেতন আছি।’ পুরো বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, মিয়ানমার থেকে এখন পর্যন্ত যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সবাইকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করা হবে।

রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর গত ২৫ অক্টোবর থেকে প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ আর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সহায়-সম্বল হারানো এসব ‘দেশহীন’ শরণার্থীর ভাষ্যে।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে যেসব পথ দিয়ে আসছে, তাদের ১৭টি বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে বলে গত শনিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) খালিদ মোহাম্মদ এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল জেলা প্রশাসনের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার যারা মিয়ানমার থেকে এসেছে সবাইকে তালিকভুক্ত করা হবে। চাইলেই যাতে তাদের খোঁজ পাওয়া যায় সেজন্য তাদের ছবি, আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে।’

এবার আসা রোহিঙ্গাদের সবাইকে একসঙ্গে রাখা হবে। তাদের জন্য উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে বনবিভাগের পাঁচ হাজার একর জমিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এডিএম। তিনি আরো জানান, খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে।

অনেক রোহিঙ্গা কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে, তাদের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, যারা বাইরে যাচ্ছে, তাদেরও এখানে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement
0.85013008117676