Beta

সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলা

মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল করে তুলছে ইরান : ন্যাটো

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১৭

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটো সামরিক জোট প্রধান জেন্স স্টোলেনবার্গ। ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটো সামরিক জোটের প্রধান বলেছেন, সৌদি আরবের দুটি তেলক্ষেত্রে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় তিনি প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। জেন্স স্টোলেনবার্গ আরো বলেন, ‘ইরান গোটা অঞ্চলটাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।’ 

এর আগে গতকাল সোমবার সৌদি আরবের দুটি তেলখনিতে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাচ্ছে, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া এমন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবারের ওই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে এর পেছনে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে, এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি এ হামলাকে সৌদি আরবের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ইয়েমেনের জনগণের’ পাল্টা জবাব বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খাতের প্রতিষ্ঠান আরামকো পরিচালিত দুটি তেল উত্তোলন ক্ষেত্রে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র হুতি বিদ্রোহীদের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে। কারো সাহায্য ছাড়া হুতিদের পক্ষে এত বড় হামলা চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দিহান মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়িত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করছে, ইরানই এ হামলার অস্ত্রের জোগান দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ন্যাটোপ্রধান স্টোলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ ধরনের আর কোনো হামলা প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, গোটা অঞ্চলে এমন হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং (এ অঞ্চলে) উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকির বিষয়ে আমরা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন।  

এ হামলা কতটা ভিন্নমাত্রার?

এর আগেও সৌদি আরবের তেলের পাইপলাইনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলাটি ছিল অনেক ব্যাপক মাত্রার। গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে গত শনিবার দেখা যায়, আবকাইক শহরে আরামকোর বৃহত্তম তেল প্রক্রিয়াজাত প্রকল্পে শনিবার ড্রোন হামলার জেরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়। এ ছাড়া খুরাইস তেলক্ষেত্রেও আরেকটি হামলা হলে আগুন লাগে ওই তেলক্ষেত্রেও।

আবকাইক তেল পরিশোধনাগারটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাহরাইন থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। আর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলক্ষেত্র খুরাইস আরো প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এর আগে ২০০৬ সালে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী আবকাইক তেল পরিশোধনাগারে আল-কায়েদার আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল।

এদিকে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবে প্রতিদিন ৫৭ লাখ ব্যারেল অশোধিত তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির প্রতিদিনের বৈশ্বিক রপ্তানির অর্ধেকের বেশি এবং বিশ্বব্যাপী দৈনিক অশোধিত তেল উৎপাদনের ৫ শতাংশের অধিক। এ উৎপাদনের বেশির ভাগই যায় এশিয়ায়। হামলার পর গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবকাইক তেল স্থাপনায় উৎপাদন পুনরায় শুরুর কাজ চলছে। তবে স্থাপনাটি পুরোপুরি চালু করতে হয়তো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কী বলছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার জানান, এ হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটাও বলেন, ‘কে এটা করেছে, আমরা সেটা নিশ্চিত হতে চাই।’

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, দ্বন্দ্ব হলে তার জন্য অন্য যে কারো চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভালো প্রস্তুতি আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেটা এড়াতে চায়।

এদিকে ইরান আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ তুলে টুইটের পর টু‌ইট করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। 

এদিকে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement