Beta

বোরকা ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে সৌদি নারী, অনেকে বলছেন বিপ্লবী

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:১৯

অনলাইন ডেস্ক

‘আমি এখন থেকে বোরকা পরা ছেড়ে দিয়েছি। কেননা এই সংগ্রাম কেবল আমার জন্যই নয়, তা গোটা সৌদি নারীদের জন্য। গত সপ্তাহে পশ্চিমা পোশাকে আমাকে একটি শপিংমলে দেখে অনেকেই বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলেন,’ বলেন মাশায়েল আল-জালৌদ নামের এক সৌদি নারী।

মাশায়েল আল-জালৌদ বলেন, তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন আমি কোনো তারকা। কেউ কেউ আবার আমাকে প্রশ্নও করেছেন যে, আমি কি বিখ্যাত কেউ? না কোনো মডেল? জবাবে আমি হাসতে হাসতে বলেছিলান, না। আমি শুধু আমার মতো বাঁচতে চাই।’

সম্প্রতি সৌদি আরবের এক নারী দেশটির চলমান প্রথার ব্যতিক্রম পশ্চিমা পোশাক পরে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছেন। কেউ কেউ তাঁকে বিপ্লবী বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

সাদা পোশাকের ওপরে রঙিন জ্যাকেট। এর সঙ্গে সাদা প্যান্ট আর হাই হিলে সড়কে সুসজ্জিতা এক নারী। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এমন পোশাকে কোনো নারীকে দেখতে পাওয়াটা ভীষণ স্বাভাবিক। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কট্টর রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে এখনো তা একটি অবিশ্বাস্য বিষয়।

সম্প্রতি এমন অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটিয়েছেন মাশায়েল আল-জালৌদ নামের ওই সৌদি নারী। পশ্চিমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব পোশাক পরে রাজধানী রিয়াদের শপিংমলে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম কুয়েত টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ৩৩ বছর বয়সী সেই নারী সৌদি মাশায়েল একটি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করেন। পাশাপাশি নিজের মতো করে চালিয়ে যাচ্ছেন নারীদের মানবাধিকার রক্ষার লড়াই।

গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সড়কে বোরকা ছাড়া পশ্চিমা পোশাকে হেঁটে রিয়াদের শপিংমলে যাওয়া তাঁর আন্দোলনেরই অংশ।

মুসলিম অধ্যুষিত রক্ষণশীল এই রাষ্ট্রটিতে প্রকাশ্যে সড়কে বের হতে হলে মেয়েদের কালো বোরকা পরিধান বাধ্যতামূলক। মূলত ইসলাম ধর্মে নারীদের পর্দার প্রতীক হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা হয়।

গত বছর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘খুব শিগগিরই সৌদি মেয়েদের পোশাকের ওপর কড়াকড়ি কমিয়ে আনা হবে। কেননা ইসলাম ধর্মে বোরকা পরা কখনোই বাধ্যতামূলক ছিল না। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’

তাকে দেখে অনেক সৌদি নারীই এগিয়ে আসছেন পোশাক বিপ্লবে অংশ নিতে। তার মতো হয়তো এতটা আধুনিক পোশাক পরছেন না কেউ। তবে অন্যরকম পোশাকেও বেরুচ্ছেন অনেকেই। সেসব ছবি আবার সাহস করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করছেন। শুধু কি তাই? রূপচর্চাতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সৌদি নারীদের জীবনে। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পার্লারে যাতায়াতও বেড়েছে অনেক।

এত দিনের চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের শেকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে কট্টরপন্থি সৌদি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Advertisement