Beta

ব্রেক্সিট নিয়ে পুনরালোচনার সম্ভাবনা দেখছে না ইইউ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:০৫

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ার। ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকর (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে শেষ মুহূর্তের বোঝাপড়ার কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেনি ব্রিটিশ সরকার। এমনকি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ার জানালেন, আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে আশাবাদের কোনো কারণ নেই।

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্য ‘লোক দেখানো’ আলোচনার ভান করছে বলে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ব্যাকস্টপ ছাড়া ব্রেক্সিট চুক্তি মেনে নেবেন না। তবে উপযুক্ত কারণ থাকলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবশ্য ব্রেক্সিটের সময়সীমার আবেদন বিবেচনা করতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। জার্মানির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ইইউ সদস্যভুক্ত স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশ নর্দান আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা ‘ব্যাকস্টপ’ বলে পরিচিত। ব্যাকস্টপসহ ব্রেক্সিট কার্যকর হলে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে ইইউ আইনের অধীনে থাকতে হবে। কিন্তু ‘ব্যাকস্টপ’ বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এতে যুক্তরাজ্যের বাকি অংশ থেকে আইনগতভাবে নর্দান আয়ারল্যান্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মনে করেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে আইন প্রণয়ন করলেও তা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির পূর্বশর্তও তুলে ধরেন মিশেল বার্নিয়ার। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সরকারের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য-সংক্রান্ত সব বোঝাপড়া মেনে চললে তবেই এমন চুক্তি সম্ভব হতে পারে বলে মিশেল বার্নিয়ার মনে করেন।

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতা গোটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার পার্লামেন্ট মুলতবি রেখেছে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে চলছে বাদানুবাদ। এতে যোগ দিয়েছেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের স্পিকারও। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একাট্টা সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্যদের অধিকার নিশ্চিতে সম্ভাব্য সবকিছু করবেন। এদিকে স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করায় আগামী মঙ্গলবার ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টির ফয়সালা হবে। অবশ্য ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের আদালত সরকারের পক্ষেই রায় দিয়েছে। ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট স্কটল্যান্ডের আদালতের রায় বহাল রাখলে ব্রিটিশ সরকারকে অবিলম্বে পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকারবিরোধী পক্ষ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব ‘অপারেশন ইয়েলোহ্যামার’ নথিপত্রকে সম্বল করে বিরোধীরা ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ইংল্যান্ডবাসীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এখনো ‘যেকোনো মূল্যে’ ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এখনো ইইউর সঙ্গে বোঝাপড়া বিষয়ে আশাবাদী।

এই বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে শুধু আয়ারল্যান্ডের জন্য আলাদা করে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার সম্ভাবনাও উঠে আসছে। অর্থাৎ ব্রেক্সিট চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যকে সামগ্রিকভাবে ইইউর বাণিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে না রেখে শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ডের  ক্ষেত্রে বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পুরোনো প্রস্তাবকে সমাধানসূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের জোটসঙ্গী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি দল এখনো যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিভাজনের বিরোধিতা করছে।

Advertisement