Beta

দুপাশে ভারত-বাংলাদেশ, মাঝে ‘পরাধীন’ এক গ্রাম

১৬ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫৯

অনলাইন ডেস্ক

নিজভূমে পরবাসী চম্পকগছ গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরের অন্তর্ভুক্ত ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। ভারতের স্বাধীনতার ৭২ বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যত পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি শিলিগুড়ি শহরসংলগ্ন এই চম্পকগছ গ্রাম। ভারত নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এ গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে কাঁটাতারের বেড়ায়। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) নজরদারিতে জীবনযাপন করেন চম্পকগছ গ্রামের মানুষ।

এপারে বাংলাদেশ, ওপারে পশ্চিমবঙ্গ, মাঝখানে চম্পকগছ। ঠিক এ কারণেই ভারতের স্বাধীনতার ৭৩তম বছরেও কার্যত পরাধীন এই গ্রাম। চম্পকগছ গ্রামে ঠিক সকাল ৬টায় গেট খুলে দেয় বিএসএফ, আবার সন্ধ্যার একটি নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়ে যায় চম্পকগছের সে গেট। প্রমাণপত্রে ‘ভারতীয়’ এই গ্রামবাসীর গেটের বাইরে যেতে হলে বিএসএফের কাছে নিজের পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। তবে নিয়মের এদিক-ওদিক হলে সেদিনের মতো প্রবেশাধিকার পেতে আলাদা করে নিতে হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিশেষ অনুমতি। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই পরাধীনতা থেকে এবার মুক্তি পেতে চাইছেন চম্পকগছের মানুষ। একসময়ে এই গ্রামে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। বর্তমানে সে সংখ্যাটি এসে দাঁড়িয়েছে ৪০টি পরিবারে। কাঁটাতারের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারই জমিজমা বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন। গ্রামের বাসিন্দা আনারুল হক বলেন, ‘স্বাধীন হয়েও পরাধীন হয়ে বাঁচতে হচ্ছে আমাদের। আত্মীয়স্বজন এলেও বিএসএফের অনুমতি নিতে হয়। তাই আত্মীয়স্বজন গ্রামে আসতে চায় না। এমনকি গ্রামে কোনো সমস্যা হলে পুলিশকেও অনুমতি নিয়ে গ্রামে ঢুকতে হয়। একবার গেট বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পড়লেও গ্রামের বাইরে বের হওয়া যায় না। বেরোতে হলে বিএসএফকে কৈফিয়ত দিতে হয়। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য। রাতের বেলায় সমস্যা হলে শুধু সন্তানসম্ভবাদের ক্ষেত্রে বিএসএফ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে দেয়।’

গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা অঞ্জু খাতুন বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতকারীরা গ্রামে ঢুকে গবাদি পশু চুরি করে নিয়ে যায়। আমাদের কিছু করার থাকে না। এসব থেকে মুক্তি চাই আমরা।’

একই সুরে কথা বললেন চম্পকগছ গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধানও। পঞ্চায়েতপ্রধান আবদুল খালেক বলেন, ‘গ্রামবাসীর এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। কিন্তু আমরা নিরুপায়। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এ নিয়ম মানতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে। তবু অনেক চিঠি চালাচালি করে গ্রামে ঢোকার গেট খোলা-বন্ধের সময় বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগের তুলনায় গ্রামে চোরের উপদ্রবও কিছুটা কমেছে।’

শুধু চম্পকগছই নয়, একই পরিস্থিতি সীমান্তের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের সর্দারপাড়া, লালজোত, বাদলাগছেরও। বাদলাগছে একটা সময় জনবসতি থাকলেও বর্তমানে সেখানে কেউ বসবাস করেন না। এখন সেখানে চাষবাস করেন কিছু ভারতীয় কৃষক। স্বাধীন ভারতের বাসিন্দা হয়েও পরাধীনতার এই মেঘ সরিয়ে সূর্যের আলোর দেখা পেতে চান চম্পকগছের মানুষ।

Advertisement