Beta

কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুক্রবার

১৫ আগস্ট ২০১৯, ২৩:০৯

অনলাইন ডেস্ক
ভারতীয় সংবিধান থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই সেখানে ভারতীয় বাহিনীর এমন কড়া নজরদারি চোখে পড়বে। ছবিটি আজ বৃহস্পতিবার শ্রীনগর থেকে তোলা। ছবি : রয়টার্স

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের অনুরোধে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল।

দুই পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বপূর্ণ ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কার্যত সম্ভব নয়। কারণ নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী দুই সদস্য চীন পাকিস্তানকে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে যথারীতি সমর্থন জানাবে বলেই ধারণা সবার।

মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশে এক চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি লেখেন, ‘পাকিস্তান কোনো সংঘাত উসকে দেবে না। ভারত কোনো উত্তেজনা চাইলে পাকিস্তান তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে আত্মরক্ষার্থে জবাব দেবে।’

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জম্মু ও কাশ্মীরের লোকজনের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে ভারত বা পাকিস্তান যেন কোনো সংঘাতে না জড়ায় সে আহ্বান জানিয়েছেন। কাশ্মীরের ভারতীয় এলাকায় জনজীবনে নিয়ন্ত্রণ আরোপের খবরে তিনি উদ্বিগ্ন বলেও জানান।

১৯৪৮ ও ১৯৫০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে একবার কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারণে গণভোটের কথাও বলা হয়।

পাক-ভারত দ্বন্দ্ব মেটাতে ১৯৪৯ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি তদারকি করতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েন রয়েছে।

গত ৪ আগস্ট থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। পরদিন ৫ আগস্ট ভারতীয় সংসদে সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে বিল পাস হয়। ফলে কাশ্মীরিরা তাদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে সেখানে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত সরকার। দুইজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহসহ কয়েকশ কাশ্মীরি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

Advertisement