কাবাঘরে পরানো হবে ১২০ কেজি স্বর্ণ খচিত গিলাফ

০৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৪

সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কায় রীতি অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবারও কাবাঘরের গায়ে স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ পরানো হবে। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার হজের দিন স্থানীয় সময় ফজরের নামাজের পরপর নতুন এই গিলাফ পরানো হবে। প্রতি বছর ৯ জিলহজ হজের দিন কাবা শরিফে পুরোনো গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানোর রেওয়াজ রয়েছে।

কাবাকে আবৃত করে রাখা কাপড়টিকে বলা হয় কিসওয়া বা গিলাফ। হাজিরা আরাফাত থেকে ফিরে এসে নতুন গিলাফ দেখে মুগ্ধ হন।  পুরাতন গিলাফ কেটে প্রতিটি দেশের সরকার প্রধানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। মূলত কাবা শরিফের গিলাফ তৈরি হয় মক্কার উম্মুদ জুদ নামক এলাকায় বিশেষ কারখানায়। গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হেরামের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ দিন সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ দুটোই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরো বানানো হয়। চারটি টুকরো চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরোগুলো পরস্পর সেলাই যুক্ত। কাবা শরিফের গিলাফের জন্য প্রয়োজন হয় ৬৭০ কেজি রেশমি কাপড়, ১২০ কেজি স্বর্ণ ও ১০০ কেজি রুপা। ৪৭ থান রেশমের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই গিলাফ। এর মোট আয়তন ৬৫৮ বর্গমিটার। প্রতিটি থান এক মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া। এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সেলাই করা। প্রতি বছর দুটি করে (একটি সতর্কতামূলক) গিলাফ তৈরি করা হয়। একটি হাতে বানাতে সময় লাগে ৯ মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়।

কাবা ঘরের গিলাফ তৈরির কারখানা বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স মক্কা নগরীর উম্মুদ জুদ এলাকায় অবস্থিত। কিসওয়া তৈরির কারখানাটি ছয়টি অংশে বিভক্ত। এগুলো বেল্ট, হস্তশিল্প, যান্ত্রিক, ছাপা, রং ও অভ্যন্তরীণ পর্দা বিভাগ। কাবা কিসওয়া তৈরিতে বর্তমানে দুই কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল বা ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। প্রতি বছর দীর্ঘ নয় মাস ধরে গিলাফ তৈরির কাজে ২৪০ জনের বেশি ক্যালিওগ্রাফার নিয়োজিত আছেন।