Beta

কুঁড়েঘর থেকে মোদির মন্ত্রিসভায়

০১ জুন ২০১৯, ১৩:৩৫ | আপডেট: ০১ জুন ২০১৯, ১৩:৩৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি। ভারতের মোদি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করা ৫৮ জনের তালিকায় তাঁর নাম ছিল ৫৬ নম্বরে। নাম ঘোষণার পর মঞ্চে উঠলেন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত অগোছালো চেহারার ৬৪ বছর বয়সী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি। উপস্থিত প্রায় আট হাজার অতিথি করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেন প্রতাপ চন্দ্রকে।

ওডিশার বালাসোর থেকে প্রথমবারের মতো মোদি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি। এরপর থেকে তাঁর নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রেন্ডিং। তবে শপথ গ্রহণের একদিন আগেও সারঙ্গির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সে ছবিতে দেখা গেছে, মোদি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ঝোলা কাঁধে নিজের কুঁড়েঘর থেকে বের হচ্ছেন সারঙ্গি। শপথ গ্রহণের পর আবার একবার নেটিজেনদের আলোচ্য বিষয় সারঙ্গি।

ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা অনুপম খের আজ শনিবার এক টুইটে প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গির কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি : সততা ও সারল্যের প্রতীক।’

তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারঙ্গির নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ‘বিতর্কিত’ অতীত। ১৯৯৯ সালের ২৩ জানুয়ারি, ওডিশার কেওনঝড়ের মনোহরপুর গ্রামে দুই সন্তান ফিলিপ (১০) ও টিমোথিসহ (৬) অস্ট্রেলীয় পাদ্রি গ্রাহাম স্টেইনসকে একটি গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় হিন্দু উগ্রপন্থীদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়।  সে সময় সারঙ্গি ছিলেন কট্টর ডানপন্থী বজরং দলের নেতা।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা বজরং দলকে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করলেও আনুষ্ঠানিক তদন্তে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা খুঁজে না পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিবিসির প্রতিবেদনে ওডিশার বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিক সন্দীপ সাহুকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সারঙ্গি ভারতে হিন্দুদেরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করানোর জন্য খ্রিস্টান মিশনারিদের ‘শয়তানি নকশার’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

ওডিশার পথে পথে সাইকেল নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো সারঙ্গি তাঁর এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। নির্বাচনের ময়দানে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী থাকার পরও সাদামাটা জীবনযাপন করা প্রতাপ চন্দ্রের ওপরই আস্থা রেখেছেন বালাসোরের জনগণ।

ওডিশার ময়ূরভঞ্জ ও বালাসোরে শিক্ষার প্রসার, মাদকবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ায় সারঙ্গি সেখানকার জনপ্রিয় মুখ। সারঙ্গি ২০০৪ সালে বিজেপি বিধায়ক হিসেবে এবং ২০০৯ সালে স্বতন্ত্র বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য দল নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সারঙ্গির।

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে প্রতাপ চন্দ্রের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিজেপির ওডিশা রাজ্যের সহসভাপতি সমীর মহান্তি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বিজেপি থেকেই মনোনয়ন পেয়েছিলেন সারঙ্গি। কিন্তু মনোনয়ন ‘টিকেট’ হারিয়ে ফেলার কারণেই নাকি শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন সারঙ্গি।

বিজেপির এই স্থানীয় মুখপাত্র বলেন, ‘তিনি যে ব্যাগে টিকিট রেখেছিলেন, বাসে করে যাতায়াত করার সময় সেটি ব্যাগ থেকে কোনোভাবে হারিয়ে গিয়েছিল। তাই শেষমেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন তিনি।’

Advertisement