Beta

মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান মমতা

২৫ মে ২০১৯, ২১:৫১

কলকাতা সংবাদদাতা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দলের অপ্রত্যাশিত ফল নিয়ে পর্যালোচনা করতেই শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলনেত্রী। তৃণমূলের প্রার্থীরা ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীরা, জেলা সভাপতি ও দলের শীর্ষ নেতারা। বিকেল ৪টা নাগাদ শুরু হয় বৈঠক। তা চলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। 

বৈঠকের পরই মমতা নিজের এই ইচ্ছার কথা সামনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে আমাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে। আমি খুব অপমানকর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকার চালিয়ে এসেছি।  নির্বাচন কমিশনের দয়ায় আমি মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম ঠিকই কিন্তু আমার হাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না। আজ  বৈঠকের শুরুতেই বলেছিলাম যে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই না। যেখানে রুপি দিয়ে গণতন্ত্র গড়া হয়, সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্টরা সরকার চালায়, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমি দলকেও বুঝিয়েছি, কিন্তু ওরা কিছুতেই আমার এটাকে গ্রহণ করেনি। তাই দলের সর্বসম্মতিতেই আমাকে কাজ চালাতে হচ্ছে।’

পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনে এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল পেয়েছে ২২টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ১৮ টি আসন। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই তৃণমূলই ৩৪টি আসনে জিতেছিল। বিজেপির দখলে ছিল মাত্র দুটি আসন। তবু কেন ৩৪ থেকে একঝটকায় ২২টি আসনে নেমে এলো তৃণমূল এই নিয়ে যারা পরাজিত তাদের কাছে পরাজয়ের কারণ এবং যারা জয়ী হয়েছেন তাদের কাছে জয়ের রসায়ন জানতে চান মমতা।

নির্বাচন নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম নিয়ে ভোট ভাগাভাগির অভিযোগ আনেন মমতা। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে একতরফাভাবে হিন্দু ও মুসলমান ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী নই। এতে যদি আমাকে একা থাকতে হয় তবে তাতেও রাজি আছি। কিন্তু আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান ভোট ভাগাভাগি মানি না।’ 

বিজেপির বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি রুপির খেলার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘এই নির্বাচনে যে রুপির খেলা হয়েছে তা যেকোনো কেলেঙ্কারিকেও হার মানাবে। হাজার হাজার কোটি রুপি খরচ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে এই রুপি বিলি করা হয়েছে।’

মমতার অভিযোগ, ‘গোটা নির্বাচন কমিশনটা বিজেপির পার্টি হয়ে গেছে। আমাদের একটা কথাও শোনেনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীও আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।’

দেশজুড়ে বিজেপির বিপুল জয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েও এই জয়ের পেছনে সন্দেহ দেখছেন মমতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ৩০০ আসন জেতার কথা বলেছিলেন। তারা তা পেয়ে গেছে এজন্য মোদিজিকে অভিনন্দন। কিন্তু এই বিপুল জয়ের পেছনে সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধীরা কিভাবে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল তা নিয়ে সত্যিই অবাক হচ্ছি। এখানে নিশ্চয়ই কিছু সেটিং আছে এবং বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে।

মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে বিরোধীদের তোষণের রাজনীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩০ তারিখে আমি কলকাতা করপোরেশনে ইফতারে যাচ্ছি, আপনারাও আসবেন। আমি নাকি মুসলিমদের তোষণ করি, আমি একশত বার যাবো, হাজার বার যাবো। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।’

এদিকে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বাঁধভাঙা জয়ের পর, চলছে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড়। ভেঙে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভা। আনুষ্ঠানিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদিকেই নির্বাচিত করেছে জোট এনডিএ।

Advertisement