Beta

ভারতে কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ২১

২৫ মে ২০১৯, ০৮:৩৭

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের গুজরাটে কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শনিবার দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মোট ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন।  

সুরাটের একটি ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ওই কোচিং সেন্টারটির অবস্থান। প্রাণ বাঁচাতে তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী নিচে লাফ দেয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সুরাটের সারথানা এলাকায় অবস্থিত ভবনটির নাম তক্ষশীলা কমপ্লেক্স। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ওই সময় তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় কোচিংয়ের ক্লাস চলছিল। আগুন দ্রুত তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকে ওপর থেকে ঝাঁপ দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট। এদিকে বহুতলের ওপর থেকে আতঙ্কে অনেকে লাফ দেওয়ায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে।

সুরাটের পুলিশ কমিশনার সতীশকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী বহুতল ভবন থেকে নিচে লাফ দিয়েছেন।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বিকেলে ষষ্ঠদশ লোকসভার ক্যাবিনেটের শেষ বৈঠক করছিলেন তিনি। তার ফাঁকেই এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। টুইটে তিনি গুজরাট সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন মোদি।

অন্যদিকে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য চার লাখ রুপি ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেছে গুজরাট রাজ্য সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  সুরাটের তক্ষশীলা কমপ্লেক্সের বহুতলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় শুক্রবার বিকেলে অন্যান্য দিনের মতোই কোচিং ক্লাস চলছিল। আচমকাই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ ওই বহতল থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে নেমে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। আগুনের তীব্রতা এবং তাপে বহুতলের ভিতরে ঢুকে সেখানে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশকে।

শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান ফায়ার সার্ভিসের। ওই ভবনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Advertisement