Beta

অনলাইন সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অঙ্গীকারের প্রতি অসমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

১৬ মে ২০১৯, ১৬:০১

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসবাদের চরমপন্থী কাজ নির্মূল করার ওপর বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার প্যারিসে অনলাইন সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ নামে একটি বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার গঠনের জন্য বৈঠক করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

এর পরপরই এক বিবৃতিতে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ এবং ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার’ প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে ওই অঙ্গীকার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার কথা জানায় হোয়াইট হাউস।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনলাইন সন্ত্রাসবাদমূলক বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) প্রতিহত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সক্রিয় থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতাও রক্ষা করতে হবে।’

এদিকে অনলাইন সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের উদ্দেশ্যে অঙ্গীকারটির নির্দেশিকা ও বিষয়বস্তু নির্ধারণের জন্য প্যারিসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নেন ফেসবুক, টুইটার, গুগল ও অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ৫১ জনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর হেলমেটে ক্যামেরা বসিয়ে ফেসবুকে সেটি সরাসরি সম্প্রচার করে। ১৭ মিনিটের ওই ভিডিওটি দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি সব জায়গা থেকে মুছে ফেলতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অনেক বেগ পেতে হয়।

নৃশংস এ ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়াকে আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। ফেসবুক জানায়, এটি লাইভ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর নিয়ম করার চেষ্টা করছে।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন বলেন, “‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ আমার দেশে সংঘটিত একটি ট্র্যাজেডির একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার নাম। এর মাধ্যমে মূলত আরো একটি মানবিক ইন্টারনেট গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ করবে। যাতে ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা এর অপব্যবহার করতে না পারে।”

অনলাইন চরমপন্থা দূর করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার জন্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখছেন আরডার্ন।

ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ড সরকার চুক্তিটির খসড়া প্রস্তুত করেছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহারকে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে গঠিত এই চুক্তিটি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অবাধ ও নিরাপদ ইন্টারনেটের নীতিসমূহ রক্ষা করবে।

অঙ্গীকারটি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও অনুমোদন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন, মাইক্রোসফ্ট, ইউটিউবসহ ফ্রান্সের কোয়ান্ট, ডেইলিমোশন উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন।

ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের এই অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, জর্ডান, নরওয়ে, সেনেগাল, ইন্দোনেশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী সংস্থা।

Advertisement