Beta

ভোটে অশান্তির জেরে পশ্চিমবঙ্গে কমলো প্রচারের সময়, সরলেন স্বরাষ্ট্র সচিব

১৬ মে ২০১৯, ১৫:০৮

কলকাতা সংবাদদাতা

ভারতে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করা হলো ৩২৪ ধারা। এর মাধ্যমে কমিয়ে দেওয়া হলো লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়। এর আগে ভারতের কোনো রাজ্যে এবং নির্বাচনের সময় এ ধারা প্রয়োগ করা হয়নি।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য ও এডিজি সিআইডি রাজীব কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ১৯ মে লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রচার একদিন কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আগামীকাল শুক্রবারের পরিবর্তে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রচার।

অনেকে বলছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিয়েছে, ভোট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অশান্তির জেরেই ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনা রাজ্যের জন্য অপমানজনক বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কি আদৌ সে রকম যে, ৩২৪ ধারা  প্রয়োগ করতে হলো?’ নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের পেছনে বিজেপির হাত আছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মমতা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে শুধু ভোট প্রচারের সময়সীমাই কমিয়ে দেওয়া হয়নি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে রাজ্যের এডিজি সিআইডির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দিল্লিতে রিপোর্ট করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য রাজ্যের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপরই অত্রি ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর দায়িত্ব থেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাঁর অভিযোগের কারণেই তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিমত, বিজেপির ইশারাতেই চলছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে রাজ্যের যেকোনো পদধারীকে সরিয়ে দিতে পারে। এরপর কাকতালীয়ভাবেই সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব ও এডিজি সিআইডিকে।

এর আগে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কথায় বদলি করা হয়েছিল কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে। এ ছাড়া বিজেপির দাবিতে আরো অনেককেই রদবদল করা হয়। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না বলে দাবি করছে দলটি। এরপরই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।

Advertisement