ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট শুরু ১১ এপ্রিল

১০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২২

কলকাতা সংবাদদাতা
লোকসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট শুরু হবে আগামী ১১ এপ্রিল। মোট সাত দফায় ভোট হবে। ভোট গণনা হবে আগামী ২৩ মে।

আজ দিল্লিতে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা এক সংবাদ সম্মেলনে ওই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।

প্রথম দফার ভোট শুরু হবে ১১ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল, তৃতীয় দফা ২৩ এপ্রিল। চতুর্থ দফা ২৯ এপ্রিল, পঞ্চম দফা ৬ মে, ষষ্ঠ দফা ১২ মে এবং সপ্তম দফা ১৯ মে। ভোট গণনা ২৩ মে।

ভারতের  প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বলেন,  ‘সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে কমিশন বদ্ধপরিকর।’ ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, ভারতের সব রাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তা, মুখ্যসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও। কেন্দ্র ও রাজ্যের শুল্ক দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আবহাওয়া ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসব সব কিছু মাথায় রেখে নির্বাচনী  নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনে  মোট ৯০ কোটি ভোটার। যার মধ্যে নতুন ভোটার দেড় কোটি। প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তা মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করতে হবে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে লাউডস্পিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন জিনিস ব্যবহার না করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও তুলে নির্বাচন কমিশনকে পাঠাতে পারবেন ভোটার। সব সংবেদনশীল ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করা হবে।

এবার ভারতে পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ১০ লাখ। তবে দরকারে ভোটের আগে বুথ খোলা হবে। কোথাও বরফপাত হলে ভোটকেন্দ্র খুলবে কমিশন।  স্পর্শকাতর রাজ্যে বিশেষ পর্যবক্ষক পাঠানো হবে।  ইভিএম স্থানান্তরে জিপিএসের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।

নির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আদর্শ আচরণবিধি’ চালু হয়ে গেল ভারতে। এই বিধি ভঙ্গ করলে নেওয়া হবে  কড়া ব্যবস্থা। ‘আদর্শ আচরণবিধি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারবেন ভোটাররা। এরইমধ্যে কর্ণাটকে পরীক্ষামূলকভাবে তা চালানো হয়েছে। নাম ও নম্বর দিয়ে অভিযোগ জানালে ১০০ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য কর্তৃপক্ষ। নাম গোপন রাখা হবে।

‘ফেক নিউজ আর হেট নিউজে’র ওপর আলাদা করে নজরদারি করবে কমিশন। যার জন্য থাকবেন নির্দিষ্ট কর্মকর্তা। নির্বাচনী খরচের মধ্যেই রাখতে হবে সামাজিক মাধ্যমে ব্যয়ের অঙ্কটা।

ভারতে ২০০৯ সালে ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছিল ২ মার্চ। ২০১৪ সালে ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছিল ৫ মার্চ। এবার ঘোষণা হলো ১০ মার্চ। 

উল্লেখ্য, ভারতের চলতি ষোড়শ লোকসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩ জুন।