Beta

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ভারতীয় বিমান হামলায়ও ‘সম্পূর্ণ অক্ষত’ জইশের মাদ্রাসা!

০৬ মার্চ ২০১৯, ১১:৩৬ | আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৯, ১১:৩৯

অনলাইন ডেস্ক
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের বিমান হামলার পরও পাকিস্তানে জইশ-ই-মোহাম্মদের পরিচালিত মাদ্রাসাটি এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। ছবি : রয়টার্স

সীমান্ত পেরিয়ে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের মুজাফফারাবাদে ‘জঙ্গিগোষ্ঠী’ জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংস এবং ৩০০ জনকে হত্যার দাবি করেছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই চাঞ্চল্যকর হামলার ছয় দিন পর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওই এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের পরিচালিত মাদ্রাসাটি এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

আজ বুধবার মার্কিন বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানফ্রান্সিসকো ভিত্তিক ব্যক্তিগত স্যাটেলাইট অপারেটর প্ল্যানেট ল্যাবস ইনক-এর স্যাটেলাইটে এসব ছবি ধরা পড়ে।  

তবে এসব ছবি প্রকাশের আগে ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলে পাঠিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইস্ট এশিয়া ননপ্রলিফারেশন প্রোগ্রামের পরিচালক জেফরি লুইস বলেন, ‘উচ্চ রেজুলেশনের স্যাটেলাইটের ছবিগুলো থেকে দাবি করা বোমা হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা তিনটি ছবি পর্যালোচনার জন্য জেফরি লুইসের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

গত সপ্তাহে ভারতের সরকারি সূত্র থেকে রয়টার্সকে জানানো হয়, ওই হামলায় ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এক হাজার কেজি বোমা হামলা করে ওই এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

জেফরি লুইস ও জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ডেভ স্ম্যালার স্যাটেলাইটের ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘ছবিগুলোতে যে ভবনগুলো অক্ষত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, ভারতের এতগুলো বোমাবর্ষণে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

ডেভ স্ম্যালার আরো বলেন, ‘ভারত দাবি করছে, তারা এই হামলায় সফল। কিন্তু যেসব যুদ্ধের উপকরণ দিয়ে এই হামলার দাবি করা হয়েছে, সেসবের কোনো প্রমাণ ছবিগুলো দেখে পাওয়া যাচ্ছে না।’

এর আগে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ভারতের এই হামলার ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান।

তবে মুজাফফারাবাদ এলাকার বাসিন্দারা বলেছিলেন, ‘ভারতের এই হামলায় কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।’

Advertisement