Beta

ব্রেক্সিটে হেরে আস্থা ভোটের মুখে থেরেসা মে

১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৮ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৮

বিবিসি

টানা পাঁচ দিন ধরে টানা তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের আনা একটি চুক্তি ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্যরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে নাকচ করে দিয়েছেন। বড় ব্যবধানে হারার পর প্রধানমন্ত্রীকে এখন আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে ৪৩২ জন এমপি প্রধানমন্ত্রীর আনা প্রস্তাবটি বাতিলের পক্ষে আর মাত্র ২০২ জন এমপি পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ইতিহাসে কোনো ভোটকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের এত বড় পরাজয় আর কখনই হয়নি।

কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের পরাজয়ের পর পরই বিরোধী দলের নেতা লেবার পার্টির জেরেমি করবিন এই সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। ফলে এখন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, থেরেসা মে যদি নিজের আস্থা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিণতি হিসেবে দেশটি একটি সাধারণ ভোটের মুখোমুখি হতে পারে। সাধারণত ব্রিটেনে পাঁচ বছর পর পর সাধারণ নির্বাচন হয়। সেই হিসেবে নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২২ সালে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্রেক্সিট নামে পরিচিত। গতকাল যে চুক্তিটি নিয়ে ভোট হয়েছে তাতে ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কীভাবে বেরিয়ে যাবে সেই ব্যাপারে শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এই চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই নিজ দল ও বিরোধীদের তুমুল বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। একে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে থেরেসা মের কেবিনেটের খোদ ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রীসহ কয়েকজন পদত্যাগ করেন। শেষতক নিজের বিপদ বুঝতে পরে মে ‘দেশের স্বার্থে’ চুক্তিটির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য নিজ দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দলের ১১৮ জন এমপিও চুক্তিটির বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

পরাজয়ের পরও অবশ্য থেরেসা মে সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিনের আনা আস্থা ভোটের বিষয়ে তিনি বুধবার কথা বলবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের মানুষ একে অন্যের দেশে যেতে পারেন। একসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। তা ছাড়া এই ইউনিয়নভুক্ত দেশের মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বসবাসও করতে পারে।

২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ব্রেক্সিট হবে কি হবে না, তা নিয়ে গণভোটে অংশ নেয়। ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় আর ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এর বিপক্ষে ভোট দেন। এতে যুক্তরাজ্যের তিন কোটি ভোটারের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়ে। এই ভোটের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ডেভিড ক্যামেরন। তার পরই দায়িত্বে আসেন থেরেসা মে। 

ব্রেক্সিটের পক্ষে যারা তাদের দাবি ছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে টানতে গিয়ে তাদের মোট অংকের গচ্ছা দিতে হচ্ছে। যা দেশের অর্থনীতিকে খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, ভোটে হেরে যাওয়া পক্ষ আবারও এই ইস্যুতে গণভোটের দাবি জানিয়েছিল। যদিও সেই দাবি কার্যকর হয়নি।

আগামী ২৯ মার্চ মধ্যরাতে ২৭টি ইউরোপীয় দেশ থেকে একযোগে বেরিয়ে যাবে ব্রিটেন। এই অবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে চুক্তির খসড়া দাঁড় করান। সোমবার রাতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে ৩২১ জন চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন আর পক্ষে দেন মাত্র ১৫২ জন। পরদিন নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সেও শোচনীয় পরাজয় হয় প্রধানমন্ত্রীর।

Advertisement