Beta

তুরস্কের ভোট শুরু, কঠিন পরীক্ষার মুখে এরদোয়ান

২৪ জুন ২০১৮, ১২:১৭ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৮, ১২:৪৯

অনলাইন ডেস্ক

নতুন সংবিধান অনুসারে জরুরি অবস্থার মধ্যেই তুরস্কের নাগরিকরা আজ ভোট দিতে শুরু করেছেন। এই ভোটের মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে আজ দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।

বলা হচ্ছে, গত দেড় দশক তুরস্কের ক্ষমতায় থাকা রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জন্য এই নির্বাচন একটি কঠিন পরীক্ষা। কারণ, এই ভোটে জয়লাভ করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হবেন।

নির্বাচনে ইসলামপন্থী এ কে পার্টির এরদোয়ানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মধ্য-বাম রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) মুহারেন ইনসে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নভেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এরদোয়ান আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

২০১৬ সালের এক ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানের পর ২০১৭ সালে এক গণভোটে সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন এরদোয়ান। এতে করে আধুনিক তুরস্কের অন্যতম এ নেতা নিজের ক্ষমতা বাড়ান। তিনি দেশটিকে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার জনরায় পান। তিনি জয়লাভ করলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন এবং যেকোনো সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন।

নিজের নীতিনির্ধারণীর প্রতিশ্রুতি গতকাল শনিবার ইস্তাম্বুলের জনগণের সামনে শেষবারের মতো তুলে ধরে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘আগামী দিনের নির্বাচনে আমরা কি বিরোধীদের অটোমান-থাপ্পড় (কাউকে বিতাড়ণের কৌশল) দিতে যাচ্ছি।’

এরদোয়ান ২০০৩ সাল থেকেই ক্ষমতায় আছেন। তিনি টানা ১১ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। এ সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশটির। মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সিএইচপির মুহারেন ইনসে পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক এবং ১৬ বছর ধরে আইনপ্রণেতা। বিরোধীদের অভিযোগ, এরদোয়ানের সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এরদোয়ান ‘বিভেদকামী’ বলেও মনে করেন বিরোধীরা। তাঁরা বলেন, এরদোয়ান জয়লাভ করলে ‘এক ব্যক্তির শাসন’ কায়েম হবে।

শেষ নির্বাচনী প্রচারে ইনসের সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞানের মাস্টারি করা এক জিনিস আর দেশ চালানো আরেক জিনিস। প্রেসিডেন্ট হতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগে।’

আর মুহারেন ইনসে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি এরদোয়ান জেতে, তাহলে তোমার ফোনে আড়িপাতা চলবে… ভয়ের রাজত্ব অব্যাহত থাকবে। আর যদি ইনসে জেতে, তাহলে আদালত হবে স্বাধীন।’ এ সময় তিনি নির্বাচনে জয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এরদোয়ানের জারি করার জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকেই জরুরি অবস্থা জারি করেন এরদোয়ান। এর পর থেকেই ৬০০ সংসদ সদস্যের সংসদকে পাশ কাটিয়ে দেশ চালাচ্ছেন তিনি। তবে এ কে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর এবারের নির্বাচনেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে অর্থনীতি ও সন্ত্রাসবিষয়ক ইস্যুগুলো সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি আরো দুটি বিষয় এ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করেছে, এর একটি হচ্ছে কুর্দি বনাম তুর্কি জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী বনাম ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি।

এই নির্বাচনে কুর্দিরাও বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে। তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তজুড়ে বসতি এলাকায় কুর্দিদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। যদি কুর্দিদের ভোট সারা দেশে ১০ ভাগের বেশি হয়, তবে তা এরদোয়ানের পার্টির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কুর্দিদের সংগঠন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) নেতা সালাতিন ডিমারটেস কারাবন্দি অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি সন্ত্রাসী মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি কারাগারে আছেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাতিন।

তুরস্কের পাঁচ কোটি ৬৩ লাখের বেশি ভোটার আজকের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ভোট চলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩৮ হাজার সদস্য এ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেলে জয়ী হবেন। তবে কোনো প্রার্থী যদি ৫০ ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় পর্বে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই ভোট হবে ৭ জুলাই।

তবে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ উভয় নির্বাচনে যদি এরদোয়ান পরাজিত হন, তবে দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে কতগুলো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। আর যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল এবং সংসদ নির্বাচনের ফল ভিন্ন হয়, তাহলেও দেশটির সংকটের মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতিসংঘের মতে, ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর দেশটির বিভিন্ন স্তরের এক লাখ ৬০ হাজার পেশাজীবীকে নানাভাবে আটক করে রাখা হয়। এই অভ্যুত্থানের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইসলামী নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেন এরদোয়ান। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement