ঈদে যুদ্ধবিরতিতে তালেবানদের সম্মতি

০৯ জুন ২০১৮, ২১:০৭

অনলাইন ডেস্ক

২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার পর এই প্রথমবারের মতো  সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনদিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে আফগানিস্তানের উগ্রপন্থী সংগঠন তালেবান বাহিনী।

আফগান কর্তৃপক্ষ ‘নি:শর্ত’ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর দুদিন পর আজ শনিবার তালিবান বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ‘শর্ত যুক্ত করে’ এ ঘোষণায় সম্মতির কথা জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ উপলক্ষে তালেবানদের সঙ্গে চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। তবে প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, এই সময়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।

এর পর আজ তালেবানদের কর্তৃপক্ষ পাল্টা জবাবে জানায়, তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতি আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনীগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে না। কিংবা কেউ যদি এই সময় আক্রমণ করে তাহলে তালেবানরা সেটি প্রতিহত করবে।

তালেবানদের ঘোষণায় আরো বলা হয়, শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, তালিবান নেতারা যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারেও ভাবছে। যদি বন্দিরা শপথ করে যে, মুক্তির পর তাঁরা আবারও যুদ্ধে অংশ নেবে না।

এর আগে গত বুধবার আফগানিস্তানের কাবুলে দেশটির সর্বোচ্চ আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে এক সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ এবং চলমান এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধকে শরিয়ত অনুযায়ী অনৈসলামিক ঘোষণা করেন ওলামারা। তাঁরা সরকারি বাহিনী এবং তালিবান উভয় পক্ষকেই চলমান এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

কাবুলে সংঘটিত ওলামাদের সমাবেশটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় সাতজন নিহত হয়।

অপ্রত্যাশিতভাবে তার একদিন পরেই আফগান সরকার যুদ্ধবিরতির অবস্থান গ্রহণ করে।

এদিকে, তালিবানদের ঘোষিত তিনদিনের যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন থেকে কার্যকর হবে এটা স্পষ্ট নয়। কেননা ২৯ বা ৩০ রোজার পর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের দিন নির্ধারিত হয়। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চাঁদ দেখার সময়ও আলাদা।