Beta

‘সৌদি আরবে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই’

২০ মার্চ ২০১৮, ১১:৪৭

অনলাইন ডেস্ক
গতকাল সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন সিবিএস নিউজের সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। ছবি : আলজাজিরা

কেবল মৃত্যুই তাঁকে সৌদি আরবের শাসনকাজ পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে পারে বলে মনে করেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুবরাজ এ কথা বলেন। এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন সৌদি যুবরাজ। 

মুহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘শুধু আল্লাহই জানেন, একজন মানুষ কত দিন বাঁচবে। মানুষটি ৫০ বছর বাঁচবে, নাকি বাঁচবে না। কিন্তু সবকিছু যদি স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে, তাহলে তা আশা করাই যায়।’

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে উপস্থাপিকা নোরা ও’ডোনেল জানতে চান, দেশ শাসনকাজে কী তাকে বাধা দিতে পারে। যুবরাজ তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, ‘কেবল মৃত্যু।’

যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহের এই সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে দেশটির নিউইয়র্ক, সিলিকন ভ্যালিসহ সব জায়গায় ব্যবসা ও অর্থবিষয়ক নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। 

কয়েক মাস আগেই মুহাম্মদ বিন সালমান দুর্নীতি দমনের নামে বেশ কয়েকজন যুবরাজসহ সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেছিলেন। এমনকি দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। 

এই গ্রেপ্তার অভিযান যুবরাজের ক্ষমতা দখলের অংশ বলেও অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবরাজ জানান, ওই দুর্নীতি দমন অভিযানে ১০০ বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। 

মুহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘সৌদি আরবে আমরা যা করেছি, তা খুব জরুরি ছিল। যা কিছু করা হয়েছে, দেশে বিদ্যমান এবং প্রকাশিত আইন অনুসারেই করা হয়েছে।’

এ সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং ইরানে ইসলাম বিপ্লবের আদলে সৌদিতে বেড়ে ওঠা রক্ষণশীলতার সমালোচনা করেন মুহাম্মদ বিন সালমান। 

তিনি বলেন, ‘১৯৭৯ সালের আগ পর্যন্ত অন্যান্য দেশের মতো আমরাও শুধু উন্নয়নশীল একটা দেশ হিসেবেই পৃথিবীতে ছিলাম।’

বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা মানবাধিকারের ধারণায় বিশ্বাসী। কিন্তু সব মিলিয়ে সৌদি আরবের মান আর যুক্তরাষ্ট্রের মান এক নয়। আমি এটা বলতে চাই না যে, আমাদের কোনো ভুলত্রুটি নেই। কিন্তু আমরা ভুলগুলোকে শোধরানোর চেষ্টা করছি।’

নারী অধিকারের বিষয়েও কথা বলেন মুহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দেশে নারী ও পুরুষ সমান। আমরা সবাই মানুষ এবং আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’
এ সময় আরো একবার ইরানের সমালোচনা করেন মুহাম্মদ বিন সালমান। ইরান কোনোদিক থেকেই সৌদি আরবের সমকক্ষ নয়, তাই তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে জার্মান শাসক এডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে মুহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান, যা এডলফ হিটলারের সঙ্গে মিলে যায়। যা ঘটেছিল, তা ঘটার আগে ইউরোপসহ পৃথিবীর অনেক দেশই বুঝতে পারেনি হিটলার কতটা ভয়ানক ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে আমি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।’

সৌদি আরবে পারমাণবিক অস্ত্র নেই বলে দাবি করেন মুহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন ‘তবে ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও করব।’

এদিকে যুবরাজের এই মন্তব্যের ভিত্তিতে ইরানের এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাম কাশেমি বলেছেন, ‘যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের রাজনীতির কোনো ধারণা নেই। তিনি শুধু বিদ্বেষী কথাই জানেন, দূরদর্শিতার অভাবেই তিনি এমনটা করেন। কথার উত্তর পাওয়ার প্রাপ্য তিনি নন।’

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement