Beta

পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিকম্পে নিহত ২০

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৪

রয়টার্স
পাপুয়া নিউগিনিতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি। ছবি : রয়টার্স

পাপুয়া নিউগিনিতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী পোর্ট মোরসবি থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দূরে সাউদার্ন হাইল্যান্ড প্রদেশে বুধবার এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে পার্বত্য অঞ্চলটির ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে ও পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, দুপুরে ভূমিকম্পের আঘাতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এলাকাটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত হওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহতদের অধিকাংশকে প্রাদেশিক রাজধানী মেন্দি ও তারি শহরের আশেপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তারি শহরের বাসিন্দা স্টেনলি মেমো নামে একজন বলেন, ‘এটি একটি বিশাল ধ্বংস।’ তিনি আরো বলেন, ভূমিধসে তার বাড়িসহ আশেপাশের ভবন ও রাস্তা ভেঙে গেছে। পানির প্রধান উৎস প্লাবিত হয়ে নোংরা ও বাদামী বর্ণের হয়ে গেছে। ফলে মানুষ পানি পান করতে পারছেন না।

ভূমিধসে তারি ও এর পাশের গ্রামের অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খনিজ, তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করছে।

পাপুয়া নিউগিনির জাতীয় দুর্যোগকেন্দ্রের একজন মুখপাত্র জানান, ক্ষতির পরিমাপ নির্ধারণে একটি প্রাথমিক জরিপ করা হচ্ছে।

মেন্ডির একজন পুলিশ কর্মকর্তা ভূমিধসের ফলে শহরে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সার্জেন্ট নারিং বঙ্গি জানান,  এখনো পর্যন্ত কোনো হেলিকপ্টার বা সরকারি কর্মকর্তারা সহযোগিতার জন্য আসেননি।

পাপুয়া নিউগিনিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রধান উদয় রেগমি জানান, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ঠিক করা প্রয়োজন। আর খাওয়ার জন্য পরিষ্কার পানি এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

প্রাদেশিক মন্ত্রী মানাশ মাকিবার মুখপাত্র জেমস জাস্টিন জানান, চিকিৎসার সরঞ্জাম, খাদ্য ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতিও প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, আহতদের এখনো চিহ্নিত করা যায়নি, তবে ২০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় সাহায্যের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি সি-১৩০ সামরিক বিমান পাঠিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত প্লেটগুলোর মধ্যে ঘর্ষণের কারণে প্রায়ই পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিকম্প হয়। ১৯৯৮ সালে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটির উত্তর উপকূল প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই হাজার দুইশ মানুষ মারা গেছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement