Beta

সেই সংকেত নিখোঁজ সাবমেরিন থেকে আসেনি

২১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪২

অনলাইন ডেস্ক
আর্জেন্টিনার সাবমেরিন এআরএ স্যান হুয়ান। ছবি : রয়টার্স

আর্জেন্টিনার সাবমেরিন এআরএ স্যান হুয়ান দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়েছে সপ্তাহখানেক হয়ে গেল। এর মধ্যে ‘স্যাটেলাইট ফোনে’ পাওয়া কয়েকটি সংকেত সাবমেরিনটি উদ্ধারে আশার সঞ্চার করে। তবে বিচার-বিশ্লেষণের পর দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, ওই সংকেতগুলো আদৌ সাবমেরিনটি থেকে আসেনি।

স্থানীয় সময় সোমবার আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সাবমেরিনটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বলে জানায় সিএনএন।

নৌবাহিনীর মুখপাত্র এনরিক বালবি জানান, পি-এইটএ প্রোসাইডন নামের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমান দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সাতটি সংকেত পায়। সে সময় ধারণা করা হয়, নিখোঁজ এআরএ স্যান হুয়ান থেকে পাঠানো হয়েছে ওই সংকেতগুলো। তবে তাদের ওই ধারণা ভুল ছিল।  সংকেতগুলো অন্য কোনো নৌযান থেকে আসতে পারে।

বালবি আরো বলেন, সাবমেরিনটির উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দুটি নৌযান সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬৫৬ ফুট গভীরে ‘সন্দেহজনক’ কিছু শব্দ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পথ দিয়ে সাব মেরিনটি মার দেল প্লাতা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।  
এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওই ধরনের শব্দ সাধারণত কোনো সাবমেরিনের দেয়ালে আঘাত করলে সৃষ্টি হয়। বিপন্ন সাবমেরিনের নাবিকরা আশপাশের নৌযানকে নিজেদের অবস্থান জানানোর জন্য এ ধরনের শব্দ করে থাকেন।

গত বুধবার সকাল থেকে এআরএ স্যান হুয়ান নিখোঁজ রয়েছে। আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়া উপকূল থেকে ৪৩২ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ আর্জেন্টিনা সাগরে অবস্থানকালে সাবমেরিনটির সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ হয় দেশটির নৌবাহিনীর। নৌযানটিতে ৪৪ জন নাবিক ছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে নিখোঁজের দুদিন পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জরুরি ভিত্তিতে সাবমেরিনটি উদ্ধারে কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পেরু, চিলি, ব্রিটেন ও সাউথ আফ্রিকা। সর্বশেষ সাবমেরিনটির খোঁজে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি বিমান।

আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এআরএ স্যান হুয়ান সাবমেরিনটি উশুয়াইয়া এন রুট থেকে বুয়েন্স আয়ারস প্রদেশের মার দেল প্লাতা শহরে যাচ্ছিল। পথেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সেটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে এটা হতে পারে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এআরএ স্যান হুয়ান নামের ওই সাবমেরিন জার্মানিতে নির্মিত। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত যুদ্ধযানটি ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে। সে সময় স্যান হুয়ানই ছিল সর্বাধুনিক সাবমেরিন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement